বিএনপি জন্মগতভাবেই জাতির সাথে প্রতারণা করেছে : শিবির সভাপতি
ছবি: সংগৃহীত
১২:১৮ এএম | ০১ নভেম্বর, ২০২৬
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, বিএনপি হচ্ছে মুনাফেকের দল। এই দলটির জন্মগতভাবেই জাতির সাথে, রাষ্ট্রের সাথে, জনগণের সাথে তারা প্রতারণা করেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৯টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিবির সভাপতি বলেন, ১৯৯০-৯১ সালে যে কারণে তারা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছিল, সেই আন্দোলনের মূল কথা ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তারা এই প্রতিশ্রুতি দিয়েই আন্দোলন করে ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল তারা উত্থাপন করেন নাই। অবশেষে তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে পড়ে তারা ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল উত্থাপন করে ১৮ দিনের মাথায় আবার নির্বাচন দিল এবং তাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ না বলে ক্ষমতার মসনদ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আজকে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের যে লংমার্চ চলছে- দেশব্যাপী ঢাকা থেকে শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে লংমার্চ মোটারাম আমিরে জামায়াতের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার দিকে আসছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে শত শত লক্ষ লক্ষ ছাত্র-জনতা, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, ব্যবসায়ী, খেটে খাওয়া মানুষ, কুলি-মজুর, দিনমজুর মানুষেরা আজ দাঁড়িয়ে রয়েছে রাস্তার দুইধারে সারিবদ্ধ হয়ে। তাদের একটাই কথা যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের পক্ষে তারা রায় দিল সেই ৭০ শতাংশ মানুষের ম্যান্ডেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা আজ দেশ পরিচালনা করার পুরাতন ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যে রেখে দেশকে অকার্যকর করার চক্রান্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে আজ জনগণ ফুঁসে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, মুগ্ধ, শহীদ আবু সাঈদের তকতকে রক্তগুলো এখনো শুকায়নি। তাদের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে যে পা মসনদে, তারা লন্ডন থেকে এসে বসেছে। সেই মসনদের ভার এখনও তারা বুঝতে পারে নাই। জনগণকে চিনতে পারে নাই। যে তীব্র আন্দোলন দিয়ে ফ্যাসিবাদকে দেশ থেকে আমরা বিতাড়িত করেছি, এক পারসেন্ট আন্দোলন করেও হলেও আপনাদেরকে বিতাড়িত করতে এ জনগণের সময় লাগবে না। পেশিশক্তি আপনাদের জন্য প্রয়োগ করার প্রয়োজন নাই। বিরোধী দল সময় দিচ্ছে, জনগণ সময় দিচ্ছে। জনগণের সাথে যে অসৌজন্যমূলক অভদ্রতামূলক আচরণ আপনারা করেছেন, যে ধৃষ্টতা আপনারা দেখাচ্ছেন, অনতিবিলম্বে তা থেকে যদি সরে না আসেন, সংবিধান সংস্কার করে রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন না করেন, তাহলে এই জনগণ দেখিয়ে দিবে কত ধানে কত চাল।
সাদ্দাম আরও বলেন, জনগণ নীরব থাকলেও অন্যায়-অবিচার মেনে নেয় না। তার অভিযোগ, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি সংস্কারে গড়িমসি করছে এবং নিজেদের স্বার্থে নির্বাচন ও সরকারি চাকরি নিয়োগব্যবস্থা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। চা-দাওয়াতের নামে পিএসসি সদস্যদের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বহালের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সরকারকে কঠোর গণপ্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ঢাকা ৪-এর এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু মুসা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআই