© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দিল্লিতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর নির্দেশ

শেয়ার করুন:
দিল্লিতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫১ পিএম | ০১ নভেম্বর, ২০২৬
ভারতের নয়াদিল্লিতে বিষাক্ত ধোঁয়াশা (স্মগ) নিয়ন্ত্রণে রোববার (১ নভেম্বর) থেকে বিধিনিষেধ আরও জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি পার্কিং ফি বৃদ্ধি এবং বাড়িতে বসে কাজ করার (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) নির্দেশ।

রোববার থেকে কার্যকর হওয়া এসব কড়াকড়ির মধ্যে রয়েছে যানবাহনের পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা এবং যানবাহনের নির্গমন কমাতে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে কর্মীদের বাড়িতে বসে কাজ করার ব্যবস্থা করা।

এ ছাড়া যেসব যানবাহন নির্ধারিত নির্গমন মানদণ্ড মেনে চলে না, সেগুলোকে রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ধুলাবালি তৈরি করে এমন সব ধরনের ধ্বংসকাজ (ডিমোলিশন) এবং বাইরের নির্মাণকাজ তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১ নভেম্বর থেকে দিল্লির শীতকালীন কর্মপরিকল্পনা কার্যকর হচ্ছে। এতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর বিধিনিষেধ, জোরদার নজরদারি এবং ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা সব দিল্লিবাসীকে নির্দেশিকা মেনে চলার এবং দিল্লির বাতাসকে আরও পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর করে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

দিল্লি সরকার ইতোমধ্যে গত এক মাস ধরে বেশ কিছু দূষণ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে রয়েছে আবর্জনা পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং কয়লা বা কাঠ ব্যবহারকারী খাবারের স্টলগুলোর ওপর কড়াকড়ি।

তবে বিগত বছরগুলোতে গৃহীত একই ধরনের উদ্যোগগুলো প্রতিবছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এ মেগাসিটিকে ঢেকে ফেলা বার্ষিক স্মগ প্রতিরোধে তেমন কোনো কাজে আসেনি। এ সময়ে নিম্ন তাপমাত্রা দূষণকারী উপাদানগুলোকে ভূমির কাছাকাছি ধরে রাখে।

দূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের নির্গমন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানার কর্মকাণ্ড, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে ফসলের অবশিষ্টাংশ (নাড়া) পোড়ানো।

ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির শীতকালীন দূষণের ২৩ শতাংশের জন্য দায়ী যানবাহন, আর খড়কুটো পোড়ানোসহ জৈবপদার্থ (বায়োমাস) পোড়ানোর জন্য দায়ী ২০ শতাংশ।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার দূষণ প্রায় ৯ শতাংশের জন্য দায়ী।

পিএম ২.৫-ক্যানসার সৃষ্টিকারী অত্যন্ত সূক্ষ্ম কণা যা ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহের গভীরে ঢুকতে পারে-শীতের প্রথমদিকের মাসগুলোতে প্রায়শই প্রতি ঘনমিটারে ৩০০ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়ে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রস্তাবিত দৈনিক সীমার চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি।

গত বছর দূষণের মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে সর্বোচ্চ ৮৪৬ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছেছিল, যা ডাব্লিউএইচও-এর মানদণ্ডের চেয়ে ৫৬ গুণ বেশি।

রোববার এয়ার কোয়ালিটি মনিটরে পিএম ২.৫-এর মাত্রা রেকর্ড করা হয় প্রতি ঘনমিটারে ২০১ মাইক্রোগ্রাম, যা নিরাপদ সীমার চেয়ে ১৩ গুণেরও বেশি। তবে গত কয়েক দিনের বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির কারণে এই চিত্রটি তুলনামূলক একটু ভালো ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ’-এ প্রকাশিত ২০২৪ সালের এক গবেষণায় অনুমান করা হয় যে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে ৩৮ লাখ মানুষের মৃত্যু বায়ুদূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

আরআই/

মন্তব্য করুন