© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:০৮ এএম | ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ব্যবসা করেছে। বর্তমানে আরেকটি দল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে একই ধরনের ব্যবসা করছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ কিংবা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না। বরং মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চায়।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, প্রত্যেককে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার হাত ধরেই দলটির প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করে কায়কোবাদ বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জানমাল ও মর্যাদা রক্ষা করা দায়িত্ব। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ গত নির্বাচনে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি আমার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সময়ও আমার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সবাইকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রবাসী কার্ড এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মতো উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আট মাসে এতগুলো উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় সবার কাছে দোয়া চান, যাতে আল্লাহ তাকে সব ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ধর্মমন্ত্রী জানান, মুরাদনগরের পরীক্ষার ফলাফল তাকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পরপর দুই থেকে তিনবার খারাপ হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের জন্য তিনি সুপারিশ করবেন।

তিনি বলেন, সরকার থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়া হবে, অথচ শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো হবে না— এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অভিভাবকরা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান। তাদের সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন শিক্ষার্থীদের ফলাফলে থাকতে হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কায়কোবাদ বলেন, আমি প্রতিভা স্কুল পরিদর্শন করে সেখানকার পরিবেশে অভিভূত হয়েছি। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়টির উন্নয়নে প্রয়োজন হলে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত রয়েছি।

শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও মুরাদনগরের মানুষের টানে এলাকায় এসেছেন উল্লেখ করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, হিপ রিপ্লেসমেন্ট ও চোখের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করেই এখানে এসেছি।

এ সময় চিকিৎসার জন্য ছুটি দেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মুরাদনগরের জনগণ তাকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কায়কোবাদ যতক্ষণ বেঁচে আছে, ততক্ষণ আপনাদের পাশে থাকবে।’

উপজেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মুরাদনগরে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, আল্লাহর রহমতে সেগুলো সম্পন্ন হলে আগামী পাঁচ বছরে এখানে আর উন্নয়নকাজের প্রয়োজন হবে না।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ লাখ টাকা, মোট ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মুরাদনগর উপজেলায় ১ লাখের বেশি গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ৭ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, এই পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য অর্থ দেওয়া নয়, বরং বৃক্ষরোপণে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করা।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে একটি উপজেলায় ১ লাখের বেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগে অংশ নেওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সনাতন ধর্মাবলম্বী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দিনের শুরুতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিভা স্কুলের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে শিশুদের সঙ্গে কেক কাটেন এবং তাদের উৎসাহ দিতে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়টিকে ১ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি এর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এমআই

মন্তব্য করুন