© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সংবিধান সংশোধন কমিটির সভা বর্জন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের

শেয়ার করুন:
সংবিধান সংশোধন কমিটির সভা বর্জন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৩৫ পিএম | ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাবিরোধী ও ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তা বর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।   

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় ডাকসু ভিপি হিসেবে সাদিক কায়েমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এবং ডাকসু যৌথভাবে এই সভা প্রত্যাখ্যান ও বর্জনের ঘোষণা দেন।  

বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক শহীদের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার সাধন। নামমাত্র কয়েকটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ সংশোধনের জন্য এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন ও সংবিধান সংস্কার মোটেও এক বিষয় নয়।

তিনি বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তবে এ ক্ষমতার মাধ্যমে বিদ্যমান সংবিধান ও এর মৌলিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনীর ইতিহাস তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, পঞ্চম, অষ্টম ও ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতো বিভিন্ন সংশোধনী আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তার দাবি, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে স্পর্শ করে এমন সংস্কার কেবল সংশোধনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হলে ভবিষ্যতে তা আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি পরিবর্তন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও মেয়াদ সীমিত করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের কাঠামোগত পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়নে আইনগতভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত ও টেকসই প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

বর্তমান সরকারের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে জাতির সঙ্গে প্রতারণা এবং নির্বাচন-পূর্ববর্তী ওয়াদার বরখেলাপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে গণরায় দিয়েছেন। এই গণরায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের পরিবর্তে জনগণের গণরায় মেনে জুলাই সনদের আলোকে অবিলম্বে স্বাধীন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন