মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জন্য নেতানিয়াহু একজন ‘বিষাক্ত’ ব্যক্তি : লাপিদ
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৪ পিএম | ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে ‘বিষাক্ত’ ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তিনি আরও বলেছেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র প্রদান সীমিত করার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টে সমর্থন বাড়ছে এবং এজন্য একমাত্র দায়ী নেতানিয়াহু।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ লাপিদ লেখেন যে, “ইসরায়েল এমন অনেক আইনপ্রণেতার সমর্থন হারাচ্ছে—যারা ইসরায়েলকে এখনও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে মনে করেন, কিন্তু নেতানিয়াহু ও তার সরকারের নীতির বিরোধিতা করেন।”
লাপিদের মতে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ জন সদস্যের মধ্যে প্রায় ২৫ জন এবং সিনেটের ১০ শতাংশেরও কম সদস্য ইসরায়েলের ঘোর বিরোধী।
“ইসরায়েলের জন্য বড় সমস্যা হলো, এই গোষ্ঠীর বাইরে থাকা সিনেটরদের মধ্যেও অস্ত্র সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে”, এক্সপোস্টে বলেছেন তিনি।
লাপিদ জানান, দুই বছর আগে ১১ জন সিনেটর ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ২৭ জন এবং এপ্রিলে তা বেড়ে পৌঁছেছে ৪০ জনে।
“তারা বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরোধিতা করেন, এমন একটি সরকারের বিরোধিতা করেন যা তাদের বোধগম্য নয় এবং সর্বোপরি, তারা নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করেন। তাদের কাছে এখন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো কিছুই বিষাক্ত।”
লাপিদ বলেন, ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইরান-নীতির বিরোধিতা করতে গিয়ে নেতানিয়াহু যখন কংগ্রেসে ভাষণ দেন, তখনই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের সঙ্গে কাজ করা সংক্রান্ত ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে এসেছিলেন।
“ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, তারা যেন ওয়াশিংটনে প্রথম সফরের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।”
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটেছে এবং আইন প্রণয়ন ও কংগ্রেসের তদারকি প্রক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
এমআই/