দেশের শান্তি ও মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না : প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩৭ পিএম | ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালে যেভাবে স্বৈরাচারকে জবাব দেওয়া হয়েছিল, আমরা আবার স্বৈরাচারকে একইভাবে জবাব দেব। আমরা দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন যে গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিকদের মজুরির জন্য কিছু শ্রমিক ভাইবোনেরা আন্দোলন করেছে। শ্রমিক ভাইবোনেরা দাবি উপস্থাপন করার সাথে সাথে সরকার সেই দাবি মেনে নিয়ে মঞ্জুরি কমিশন গঠন করেছে এবং সেই মঞ্জুরি কমিশন কাজ করেছে। মঞ্জুরি কমিশন বলেছে- ইনশাআল্লাহ আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিক ভাইয়েরা নতুন পে স্কেলে তাদের বেতন মজুরি সবকিছু পাবে। কিন্তু আমরা খেয়াল করলাম শ্রমিক ভাইবোনদের আন্দোলনের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ, কিছু বিশৃঙ্খলাকারী, কিছু দুষ্কৃতকারী ঢুকে মিল কলকারখানার ক্ষতি করছে, জনগণের সম্পদের ক্ষতি করছে। এরই মধ্যে পত্র-পত্রিকায় খবর বেরিয়ে এসেছে যে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিকামী মানুষ যেই ফ্যাসিস্টকে এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল, তারা সীমান্তের ওপার থেকে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা করেছে।
তিনি বলেন, আজ যখন তারা দেখেছে দেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। দেশের মানুষ পরিশ্রম করতে চায়। দেশের মানুষ দেশ এবং নিজের ভাগ্যকে গড়ে তুলতে চায় এবং বর্তমান সরকার দেশের মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। তখন তারা ষড়যন্ত্র করে মজুরি বৃদ্ধির নামে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টি করেছে, ধনসম্পদ নষ্ট করছে, মিল কারখানাগুলোর ক্ষতি করছে।
গার্মেন্টস শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য, এই দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য গার্মেন্টস কারখানাকে এই দেশে নিয়ে এসেছিলেন। গত ৫০ বছরে তিলে তিলে বাংলাদেশের শ্রমিক-মজুর ভাইয়েরা, এই দেশের উদ্যোক্তারা এই গার্মেন্টস শিল্পকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছে। আজ সেই পলাতক স্বৈরাচাররা সীমান্তের ওপার থেকে ষড়যন্ত্র করে এই দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিলিমিনি খেলছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিতকে শক্তিশালী করা সেই গার্মেন্টস শিল্পকে এরা আজকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে।
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেভাবে জনগণ ২০২৪ সালে তাদের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়েছিল। ঠিক একইভাবে দেশকে যদি রক্ষা করতে হয়, দেশের অর্থনীতিকে যদি রক্ষা করতে হয়, দেশের শিল্প-কল কারখানাকে যদি রক্ষা করতে হয়, তাহলে ২০২৪ সালের মতো আবারো জনগণকে গর্জে উঠতে হবে। আবারো সেই ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে হবে।
বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সকল সময় জনগণের সাথে ছিল। জনগণের পাশে ছিল। এজন্যই আমরা বলে থাকি আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই জন্যই জনগণ যখনই বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনার জন্য, সকল সময় আমরা জনগণের পক্ষে দেশের পক্ষে যে সকল কাজ করা উচিত সেই কাজগুলো শুরু করেছি।
শিল্পকারখানা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শিল্প কলকারখানা গড়ে তুলতে চাইছি যাতে করে এই দেশের মানুষ কাজ করে বেঁচে থাকতে পারে যাতে করে এই দেশের অর্থনৈতিক বনিয়াদ শক্তিশালী হতে পারে সেজন্যই আমরা দেশের স্বাস্থ্য সেবাকে গড়ে তুলতে চাইছি যাতে বাংলাদেশের মানুষকে আর বিদেশে যেতে না হয় স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য এজন্য। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদেরকে লেখাপড়াসহ তাদেরকে সকল রকম গুণাবলীতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চাইছি।
তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি আমাদের তরুণ সমাজরা যাতে দেশে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। সেই জন্য তাদেরকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করার চেষ্টা করছি। যাতে করে দেশেই হোক, বিদেশেই হোক, আমাদের যুবকরা-তরুণরা যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় এবং তারা যাতে জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে পারে।
তিনি বলেন, এই দেশ বাঁচলে আপনি বাঁচবেন এই দেশ বাঁচলে আমি বাঁচবো, এই দেশ বাঁচলে জনগণ বাঁচবে। এই দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। কাজেই যে মালিক তাকে আজ রুখে দাঁড়াতে হবে।
এমআর/