রাশেদ খাঁনএকাত্তরের রাজাকার এবং চব্বিশের রাজাকার মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২৬ পিএম | ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, আজ যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন, তখন সেই একাত্তরের রাজাকার এবং চব্বিশের রাজাকার মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। সরকারকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তারা যদি বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করতে যায় তাহলে তাদেরকে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা চব্বিশে গণহত্যা চালিয়েছে তাদের রাজনীতি করার অধিকারই নেই।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে জেলা বিএনপি আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি তারা পদে পদে এই রাষ্ট্রকে নিয়ে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র করছে। অতীতে তারা পার পায়নি, এখনো চক্রান্ত করে সেই একাত্তরের রাজাকার জামায়াতে ইসলামী এবং চব্বিশের রাজাকার আওয়ামী লীগও সফল হতে পারবে না।
তিনি বলেন, শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পরে ভারত চেষ্টা করছিল এই দেশে আর একটি সেনা অভ্যুথান ঘটিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে। ৩ নভেম্বর সেই চেষ্টা সফল হয়েছিল। কিন্তু ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জনগণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। তিনি ক্ষমতা দখল করেন নাই। জনগণ বিশ্বাস করে সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। যারা বলে থাকে বিএনপি জোরপূর্বক ক্ষমতায় বসেছিল, ওরা ইতিহাসকে বিকৃত করছে। ওরা ইতিহাস জানে না।
রাশেদ খাঁন বলেন, আগামীতে স্থানীয় নির্বাচন আছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই একাত্তরের ও চব্বিশের রাজাকার চক্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। সেখানেও আপনাদের এভাবে রাজপথে উপস্থিত থেকে ওদের চক্রান্ত মোকাবিলা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, এতোদিন আমরা ভুল ইতিহাস জেনেছি। এখন জাতিকে সত্য, সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। ৭ নভেম্বর ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী জনতার যে প্রতিরোধ ছিল সেই ইতিহাস আমাদেরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মূলত এই দিনটি ছিল ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সিপাহী জনতার বিপ্লব।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। র্যালিটি শহরের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড চত্বর থেকে সকালে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/