© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পদ্মার পানি আদায়ে ছাড় নয়, প্রয়োজনে আবারও লংমার্চ: আখতার হোসেন

শেয়ার করুন:
পদ্মার পানি আদায়ে ছাড় নয়, প্রয়োজনে আবারও লংমার্চ: আখতার হোসেন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৪৮ এএম | ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেছেন, ডিসেম্বরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। গঙ্গা বা পদ্মা যে নামেই আমরা ডাকি, পদ্মার পানির ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষ একবিন্দু ছাড় দেবে না। কারণ পদ্মার পানি শুধু পানি না, বাংলাদেশের মানুষের পরিবেশ, কৃষি, জীবন-জীবিকা থেকে শুরু করে এটি বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালি পৌরসভার রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পাশে পথসভা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের মানুষেরা অত্যন্ত সাহসী মানুষ। ইতিহাসের অংশ। কারণ ১৯৭৬ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এই রাজশাহী থেকেই ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছিলেন। সেই লংমার্চে ঘটনা আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কারণ আসছে ডিসেম্বরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। গঙ্গা বা পদ্মা যে নামেই আমরা ডাকি, পদ্মার পানির ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষ একবিন্দু ছাড় দেবে না। কারণ পদ্মার পানি শুধু পানি না, বাংলাদেশের মানুষের পরিবেশ, কৃষি, জীবন-জীবিকা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজ হওয়ার আগে এই পদ্মা হয়ে যে পরিমাণ পানি আসতো, শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা হওয়ার পরে সে পানির প্রবাহ অর্ধেকে নেমে গেছে। বাংলাদেশের মানুষকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। পদ্মার যত শাখা নদী-উপনদী আছে, এই নদীগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে কোনো পানি পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল খুলনা রিজিয়নে সমুদ্র থেকে লোনা পানি উজানের দিকে চলে আসছে। কারণ পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কম। শাখা নদীর উপনদীগুলোতে পানির প্রবাহ কম। বাংলাদেশের কৃষিকে ধ্বংস করার যে নীল নকশা, মানুষকে অধিকার বঞ্চিত করার নীল নকশা, সেটা আমরা বাস্তবায়ন হতে দেব না। আমরা বাংলাদেশের মানুষেরা বর্তমান সরকারের কাছে বিনীত কণ্ঠে আহ্বান করতে চাই। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের কথা রেখে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিতে এক বিন্দু ছাড় দেওয়া চলবে না।

পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের আদায় করে নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর যদি কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়, বাংলাদেশকে পানি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়; বাংলাদেশের মানুষের কৃষি, পরিবেশ নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়, যদি এদেশের মানুষের জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন তৈরি করা হয়, তাহলে আবারও মাওলানা ভাসানীর মতো করে লংমার্চের কর্মসূচিতে শামিল হতে আমরা এক বিন্দু দেরি করব না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কথা বলব কিন্তু আমাদের পানির হিস্যা আমরা আদায় করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশের মানুষেরা বিগত ১৬টা বছর নিদারুণ কষ্টের মধ্যে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাংলাদেশের কত মানুষকে গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে, আয়নাঘরের মতো বন্দিশালায় তাদেরকে আটকে রাখা হয়েছে। এমন অসংখ্য মানুষ আছে, যারা আর ফিরেও আসতে পারে নাই। ১৬টা বছর ধরে আমরা যখন হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তখন সবগুলো রাজনৈতিক দল যারা বিরোধীদলের ভূমিকায় ছিল, আজকের বিএনপি, জামাতসহ সবাই তখন একটা কথাই বলতো, আমাদের রাষ্ট্র কাঠামোতে সংস্কার প্রয়োজন। আমরা যদি রাষ্ট্র কাঠামোতে সংস্কার করতে না পারি, তাহলে এক হাসিনা যাওয়ার পরে আরেক হাসিনা আসবে। রাষ্ট্র কাঠামো একই যদি থেকে যায় বাংলাদেশের মানুষের কোনো মুক্তি ঘটবে না।

তিনি আরও বলেন, ২৪ এর অভ্যুত্থানের সময়টাতে বাংলাদেশের মানুষেরা যারা রাজপথে নেমেছিল। তারা একই সাথে চেয়েছিল বাংলাদেশ থেকে হাসিনাকে উৎখাত করা। হাসিনার যে শাসন ব্যবস্থা সেটা পাল্টে দিয়ে নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা বাংলাদেশের মানুষের লক্ষ্য ছিল। এ লক্ষ্যের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের কমিটমেন্ট, তারা ভোটের গণরায়ের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করেছে।

আখতার বলেন, আপনারা যারা ভোট কেন্দ্রে গিয়েছিলেন, মার্কায় ভোট দিয়েছেন, গণভোটে আপনারা হ্যাঁ’এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ৭০ শতাংশ মানুষ তারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পরেও বিএনপি সরকার গঠন করার প্রথম দিনেই গণভোটের গণরায়কে তারা অস্বীকার করেছে। এখন তারা একটা সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে। একদলীয়, একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি। মাঝে মাঝেই তারা নানা ধরনের বৈঠকে বসতেছে। সেসব বৈঠক লোক দেখানো। সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকগুলো লোক দেখানো। সেই বৈঠকের মধ্য দিয়ে জাতির জন্য কল্যাণকর কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না। কোনো প্রস্তাবনা আসছে না। সেই সংবিধান সংশোধন কমিটিতে প্রস্তাবনা আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে স্পিকারকে নিয়োগ করা হবে।

বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছে উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে, তখন বিএনপিসহ আমাদের সকলের দাবি ছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা। কিন্তু এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশে পুনর্বহাল করা হবে। এই সিদ্ধান্তে আমরা একমত, একটা জায়গায় গলত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন? শিক্ষা নির্ণয় করার জন্য ঐক্যবদ্ধ কমিশনে আলোচনা হয়েছে। সরকারি দল বিরোধী দল দ্বিতীয় বৃহত্তম দল সকলে মিলে সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ঠিক করব। যদি আমরা সিদ্ধান্ত উপনীত হতে না পারি, তাহলে ভোটাভুটির ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত করব। কারণ আমাদের দরকার একটা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যখনই নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে, যখনই বাংলাদেশে শাসন ব্যবস্থায় সরকারের পরিবর্তনের কথা আসছে, ঠিক সেই সময়টাতে বাংলাদেশে নানা ধরনের সহিংসতা, নানা ধরনের চক্রান্তে বাংলাদেশের মানুষকে পড়তে হয়েছে। যাতে করে ভবিষ্যতে আর বাংলাদেশের মানুষদেরকে সরকার পরিবর্তনের সময়টাতে নির্বাচনের সময়ে আর কোনো কোনো সংকটে পতিত হতে না হয়। সে কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকার তারা আগের মতো করে তত্ত্বাবধয়ক সরকার নিয়ে একটা দুরভিসন্ধি করেছে।

এসময় প্রধান বক্তা ছিলেন, এনসিপির সাংগনিক সম্পাদক ইমরান ইমন। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এম এ সবুর, সদস্য সচিব নহিদুল ইসলাম সাজু। সভাপতিত্ব করেন কাটাখালি পৌরসভা এনসিপির আহ্বায়ক মাসউদুল ইসলাম।

একেএস/

মন্তব্য করুন