‘সংশোধন নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণকারী ও ভিন্নমতাবলম্বীর মত রুখতে এই আইন স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী। কোনো সংশোধন নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পুরোপুরি বাতিল করতে হবে।

সোমবার (২৯ মে) সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রুরাল ডেভেলপমেন্ট সংস্থার (আরডিআরএস) হলরুমে আয়োজিত ‘আমাদের কণ্ঠস্বর আমাদের পছন্দ: নারী এবং যুব গণতান্ত্রিক নাগরিক স্থান‌‌’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়ন ও প্লান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘আর্টিকেল নাইনটিন’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুরোপুরি বাতিল নয় বরং সংশোধন ও সংস্কার প্রয়োজন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আইন কখনো কাউকে শায়েস্তা করার জন্য হয়নি। আইন হয়েছে দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রয়োজনে।

তিনি আরও বলেন, আইনের কোনো দোষ দেখি না। আইন আইনের গতিতে চলছে, চলবে। আইনের অপব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ বায়েজীদ আহম্মেদ প্রমুখ।

সংলাপে অংশ নেয়া বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর থেকেই আইনটির বিভিন্ন নিবর্তনমূলক ধারার যথেচ্ছ অপব্যবহার হয়ে আসছে। আইনটি মুক্তচিন্তা, ধর্ম নিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ দমনের কৌশল হিসেবে যেমন বৈষম্যমূলকভাবে এই আইনের ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে, তেমনি এই আইন সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী ও
উগ্র ধর্মান্ধতার শঙ্কাজনক বিকাশে সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। সরকারের তরফ থেকে এই আইনের সংশোধনের কথা বলা হলেও, এই আইনটি পুরোপুরি বাতিল করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

Share this news on: