© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘ইরানের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারের সন্ধান পাওয়া গেছে’

শেয়ার করুন:
‘ইরানের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারের সন্ধান পাওয়া গেছে’
মোজো ডেস্ক
০৮:৩২ এএম | ২০ মে, ২০২৪
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি পাওয়া যাওয়ার সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। সোমবার (২০ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে রোববার (১৯ মে) আজারবাইজান প্রদেশে একটি বাঁধ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট রাইসি। সেখান থেকে ফেরার সময় ভারজাকান এলাকায় হেলিকপ্টারটি অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার ও অনুসন্ধান টিমগুলো বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটির সন্ধান পেয়েছে। তবে ওই হেলিকপ্টারের আরোহী প্রেসিডেন্ট রাইসি ও অন্য কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের একজন কর্মকর্তা যিনি অনুসন্ধান এলাকায় অবস্থান করছেন, তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, হেলিকপ্টারটি খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে এখনো তিনি নিশ্চিত তথ্য পাননি।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা একটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদক জ্বালানিমন্ত্রী আলী আকবর মেহরাবিয়ানের বরাত দিয়ে বলেছেন, এখনো কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই। তবে ওই প্রতিবেদক বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার টিমগুলোর বিশ্বাস তারা হেলিকপ্টারটির সম্ভাব্য অবস্থানের দুই কিলোমিটারের মধ্যেই আছে।

এদিকে তুরস্কের সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি তুর্কি ড্রোন হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে এরকম একটি উৎস সনাক্ত করেছে।

হেলিকপ্টারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান, পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের গভর্নর মালেক রহমাতি, তাবরিজের জুমার নামাজের খতিব হোজ্জাতোলেস্লাম আল হাশেম এবং আরও কয়েকজন আরোহী ছিলেন।

এর আগে রাইসির হেলিকপ্টারে থাকা একজন কর্মকর্তা এবং ফ্লাইটের একজন ক্রু যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী বিভাগের ডেপুটি মোহসেন মানসুরি।

তিনিই এই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের দেখভাল করছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে মোহসেন বলেন, এটা একটা আশার কথা। এতে বোঝা যায়, ঘটনা অতোটা গুরুতর নয়, কারণ ওই ফ্লাইটের দুজন ব্যক্তি আমাদের লোকজনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করতে পেরেছেন।

মানসুরি বলেন, প্রেসিডেন্ট রাইসির হেলিকপ্টার এবং আরও দুটি কপ্টার তাব্রিজ শহরের পথে যাচ্ছিল। পরে প্রেসিডেন্ট এবং তার আজারবাইজানীয় প্রতিপক্ষ দুই দেশের সীমান্তে কিজ কালাসি বাঁধ উদ্বোধন করেন।

প্রসঙ্গত, ইরানের বিমান দুর্ঘটনার ভয়ংকর রেকর্ড রয়েছে। এর অন্যতম কারণ, দেশটি বিমানের পরিষেবা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে পারে না। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো না কোনোভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেই সময় থেকে বিমান দুর্ঘটনায় প্রায় ২০০০ ইরানি প্রাণ হারিয়েছেন।

এমন সময় এ দুর্ঘটনা ঘটল, যখন গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধংদেহী অবস্থা বিরাজ করছে। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরাক, আজারবাইজান ও পাকিস্তান এ দুর্ঘটনার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইরাক ও আজারবাইজান উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। সৌদি আরব বলেছে, রাইসির হেলিকপ্টার অনুসন্ধানে ইরানকে যে কোনো ধরনের সহায়তায় তারা প্রস্তুত। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, দুর্ঘটনার খবরে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। ইরানকে সব ধরনের সহায়তা দিতে তার দেশ প্রস্তুত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

মন্তব্য করুন