কোটার দৌরাত্ম্য, নাকি মেধার মূল্যায়ন?
ছবি: সংগৃহীত
১১:১২ এএম | ২০ জানুয়ারি, ২০২৫
পিছিয়ে পরা বিশেষ শ্রেণীর জন্য বরাদ্দকৃত একটি ব্যবস্থা হলো কোটা। যে একটি বিষয়কে ঘিরে বদলে গেছে পুরো দেশের চিত্র। কোটা সংস্কার নিয়ে গেলো জুলাইয়ে আন্দোলন – গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে পতন হয়েছে আওয়ামী সরকারের। ঝরে গেছে শত শত প্রাণ। তবে, এতো কিছুর পরিবর্তনের মাঝেও এই বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে এখনও রয়ে গেছে প্রশ্ন। সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই আবারও আলোচনায় কোটা ব্যবস্থা।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রকাশ করা হয়েছে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল। যেখানে, এবার পাসের হার ৪৫.৬২ শতাংশ। অংশগ্রহণকারী এক লাখ ৩১ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এবার উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ৬০ হাজার ৯৫ জন। মেধাক্রম অনুযায়ী মেডিকেল অধ্যায়নে সুযোগ পেয়েছে ভর্তি প্রত্যাশীরা।
তবে, বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০ নম্বর পেয়েও সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন না হাজারো শিক্ষার্থী। সেখানেই মাত্র ৪১ থেকে ৪৬ নম্বর পেয়েও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী।
কোটার প্রয়োগের ফলেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। মূলত মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ বিভিন্ন কোটা সংরক্ষণের কারণে অনেক বেশি নম্বর পেয়েও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন না। যেখানে কোন রকমে উত্তীর্ণ হয়েও কোটার প্রয়োগে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানাচ্ছে, দেশের ৫৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে মোট ৫ হাজার ৩৮০টি আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা ও নাতি-নাতনিদের জন্য থাকছে মোট ২৬৯টি আসন। এর বাইরেও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জন্য ৩৯টি সংরক্ষিত আসন ও সাধারণ আসনের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক কোটা সংরক্ষিত রয়েছে।
জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সব মিলিয়ে ২৬৯টি আসন থাকলেও এবার পাস করেছেন মাত্র ১৯৩ জন। তার মানে দাড়ায় যারা পাশ করতে পেরেছেন তাদের প্রায় সকলেই পাচ্ছেন ভর্তির সুযোগ। এ নিয়ে ইতিমধ্যে মেডিকেলে ভর্তির ফল বাতিলের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিক্ষোভ কর্মসূচী। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও কোটা বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে ভালো চোখে দেখছেন না অনেকেই।
টিএ/