ফ্রিজ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উদ্ধারে তৎপর বিএফআইইউ
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫৮ পিএম | ২১ জানুয়ারি, ২০২৫
অর্থপাচার ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), সাবেক মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী ব্যবসায়ীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাড়ে ৩৫০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে। গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এ কার্যক্রম শুরু হয়। জব্দ করা এই অ্যাকাউন্টগুলোতে ইতিমধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে, যা উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। দুর্নীতি দমন কমিশন, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত বিভাগ এবং বিএফআইইউর নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিএফআইইউর সূত্র জানিয়েছে, অর্থপাচার রোধ ও পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী কিংবা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও চলছে।
বিএফআইইউর সাবেক প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার একটি জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। তবে সরকার-টু-সরকার চুক্তি এটি সহজ করতে পারে। যদি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতে প্রমাণ করতে পারে যে অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে, তাহলে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তদন্ত চলাকালে বিএফআইইউ সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট সর্বোচ্চ সাত মাস স্থগিত রাখতে পারে। তবে মামলা হলে আদালত এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্য সরকারের দৃঢ় সংকল্প এবং ধৈর্যের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী আইনি দলের প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থপাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের অপকর্ম চলতেই থাকবে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা দেশের অভ্যন্তরে অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করে, তাদের দমন করতে কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র জানিয়েছে, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জব্দ করা অ্যাকাউন্টগুলো মালিকদের নামে থাকলেও অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণ হলে এই তহবিল ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিএফআইইউ বর্তমানে সিআইডি, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং কর গোয়েন্দাদের সঙ্গে মিলে প্রমাণ সংগ্রহ ও মামলা পরিচালনায় কাজ করছে। এই পদক্ষেপটি অর্থপাচার মোকাবিলা এবং চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টিএ/