© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘মুসলিম ব্যান’ এর আওতা বাড়ালেন ট্রাম্প

শেয়ার করুন:
‘মুসলিম ব্যান’ এর আওতা বাড়ালেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

তাহমিনা তাশরিফ
১১:০৭ এএম | ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নিয়েই একাধিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সই করেছেন নতুন নির্বাহী আদেশে। যার অধীনে ভিসা-সংক্রান্ত অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের অপসারণের আওতা আরও সম্প্রসারিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে এ নির্বাহী আদেশের মধ্যে দিয়ে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর ভ্রমণকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।

গত ২০ জানুয়ারি নতুন মেয়াদে ট্রাম্পের শপথ শেষে নির্বাহী আদেশটি জারি হয়। এর আওতায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার এমন বিদেশি শিক্ষার্থীরাও পড়বে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী বিদেশি নাগরিক হলে— তাকে দেশ থেকে বহিস্কার করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন।

নির্বাচনি প্রচারণার সময়ই ট্রাম্প বলেছিলেন, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত দেশের মানুষের ওপর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন তিনি। তিনি আরও বলেছেন, সাম্যবাদী, মার্ক্সবাদী ও সমাজতান্ত্রিকেরা যেন যুক্তরাষ্ট্রে না ঢুকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি উদ্যোগ নেবেন।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মুসলমানদের মধ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন বেশি তাই এটি মূলত ‘মুসলিম ব্যান’ এর রাস্তাই প্রশস্ত করেছে। ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্টেন্স প্রজেক্ট এর আইনজীবী দীপা আলগেসান জানান, ২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সময়ও ট্রাম্প বেশকিছু মুসলিম-প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। 

এবারের নিষেধাজ্ঞা আরও বৈষম্যমূলক এবং আগের চেয়েও খারাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার এর আওতা অনেক বড়। সবচেয়ে খারাপ অংশটি হলো– কেবল যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের ওপরই তা কার্যকর হবে না, বরং একই যুক্তি দেখিয়ে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ব্যক্তিদেরও বের করে দেয়া যাবে।

নির্বাহী আদেশটিতে বলা হয়, শিগগিরই ত্রুটিপূর্ণ ও নথি-পত্রহীন বিদেশিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার, গোয়েন্দা ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের ৬০ দিনের সময়সীমা দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যেসব দেশের যাচাই-বাছাই ও তল্লাশি প্রক্রিয়া ‘ত্রুটিপূর্ণ’, সেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর আংশিক বা সম্পূর্ণ স্থগিতাদেশ জারি করা হবে।

নতুন আদেশ অনুযায়ী, যে ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির প্রতি শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করবে, তাদের ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হবে।

মানবাধিকার কর্মীরদের মতে, ট্রাম্পের ডিক্রির ভাষায় মারাত্মক অস্পষ্টতা রয়েছে। এটি সবচেয়ে 'আতঙ্কজনক'। ট্রাম্প প্রশাসন যেসব ব্যক্তিদের টার্গেট করতে চায়, সরকারি সংস্থাগুলোকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলারই যেন ঢালাও নির্দেশ এটি।

টিএ/

মন্তব্য করুন