© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গাজায় যুদ্ধবিরতিতে প্রকাশ্যে ইসরায়েলের ভয়াবহ রূপ

শেয়ার করুন:
গাজায় যুদ্ধবিরতিতে প্রকাশ্যে ইসরায়েলের ভয়াবহ রূপ

ছবি: সংগৃহীত

তাহমিনা তাশরিফ
০৪:২৯ পিএম | ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫
দীর্ঘ ১৫ মাস পর বহুল আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি পেয়েছেন গাজাবাসী। হামাসের হাতে জিম্মি ইসরায়েলিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দি। ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন বাস্তুচ্যুত গাজাবাসী। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলা বন্ধ থাকায় ক্রমান্বয়ে বের হয়ে আসছে গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের আগ্রাসনের ভয়াবহ চিত্র।

দীর্ঘ ১৫ মাসের ভয়াবহ হামলা ও স্থল অভিযানে এতিম হয়ে গেছে ৩৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু। বিধবা হয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার নারী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে তথ্যটি জানিয়েছে তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ। ইসরায়েলি বর্বরতায় এখনও নিখোঁজ আছেন ১১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যা ও আগ্রাসনে ৩৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু এতিম হয়েছে। বাবা হারিয়ছে প্রায় ৩২ হাজার ১৫১ জন শিশু। অন্যদিকে ৪ হাজার ৪১৭ জন শিশু তাদের মাকে হারিয়েছে। বাবা-মা উওভয়কে হারিয়েছে ১ হাজার ৯১৮ জন শিশু।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলি অভিযানে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি। ধ্বংস হয়ে গেছে অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশ অবকাঠামো। সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিসংখ্যানগুলো গাজার জনগণের যন্ত্রণার মাত্রা কতটা তীব্র সেটিকেই প্রতিফলিত করে। গাজা যুদ্ধে সর্বস্ব হারানো শিশু ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসন করতে সবাইকে জরুরিভাবে কাজ করতে হবে।

গাজায় ছয়-সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায় কার্যকর হয়েছে গত ১৯ জানুয়ারি। তিন-পর্যায়ের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে বন্দি বিনিময় এবং স্থায়ী শান্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।

টিএ/

মন্তব্য করুন