গ্রেপ্তার এড়াতে স্কুল, কর্মস্থলে যাচ্ছেন না যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীরা
ছবি: সংগৃহীত
১১:২০ এএম | ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করতে ঝটিকা অভিযান শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ মেনে স্থানীয় সময় ২৬ জানুয়ারি শুরু হয় এ তৎপরতা। নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি অভিযানে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিভিন্ন সংস্থা। এরই মধ্যে দেশজুড়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় এক হাজার জন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে। আইসিইর পাশাপাশি সপ্তাহব্যাপী অবৈধ অভিবাসী অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছে এফবিআই, ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।
ট্রাম্পের ইশারায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসী তাড়ানোর দায়িত্ব পেয়েছেন টম হোম্যান। তিনি আইসিইর সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক। সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ঝটিকা অভিযান শুরুর দিনকে ‘একটি ভালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন হোম্যান। তার মতে, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের ‘মোড় বদলে’ দেয়ার মতো একটি ঘটনা।
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পুরো প্রশাসনকে কাজে লাগিয়েছেন উল্লেখ করে হোম্যান বলেন, ‘শিকাগো এবং পুরো দেশের জননিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিগুলোর ওপর নজর রাখতে সরকারের সব আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে মাঠে নামানো হয়েছে।’
এক এক্স পোস্টে আইসিই জানিয়েছে, ২৬ জানুয়ারি থেকে চলা অভিযানে দেশজুড়ে ৯৫৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শিকাগো, আটলান্টা, পুয়ের্তো রিকো, কলোরাডো, লস অ্যাঞ্জেলেস, অস্টিন ও টেক্সাস শহরে অভিবাসনসংক্রান্ত কর্মকর্তাদের তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বরাতে জানা গেছে, প্রতিদিন ৭৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে প্রতিদিন গড় গ্রেপ্তারের সংখ্যাও বাড়বে। গত অর্থবছরে আইসিইর অভিযানে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে দক্ষিণের টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে ব্যাপক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তাদের বড় অংশের ঠিকানা হয়েছিল টেক্সাস। ব্যাপক অভিবাসীর ঢল সামাল দিতে তখন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট তাদের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি শাসিত শহরগুলোয় পাঠিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
অস্থায়ী আবাসে জায়গা পেলেও এবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সে অভিবাসীরা। ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান অভিযান থেকে বাঁচতে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না বৈধ নথিবিহীন অভিবাসীরা। এমনকি নিজেরাও যাচ্ছেন না কর্মস্থলে।
ইউএস কমিটি ফর রিফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টস নামের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বলছে, এর আগে কখনও শিশুরা স্কুলে যেতে ভয় পেত না। কিন্ত এখন অনেক বাচ্চাই স্কুলে আসছে না। তাদের ধারণা স্কুলে এলেই তাদের ধরে নিয়ে যাবে। তারা মা–বাবার কাছ থেকে এসব বিষয়ে শুনছে। তাদের মনের অবস্থা কী, তা অনেকটাই বোঝা যাচ্ছে।
এদিকে শিকাগোতে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মামলা করেছে শহরটির অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠনগুলো। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, শিকাগোয় অভিবাসীদের জন্য ছাড় থাকার কারণে শহরটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযানের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এটি সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেয়া বাকস্বাধীনতার অধিকারের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে চতুর্থ সংশোধনীতে অযৌক্তিক তল্লাশি ও আটকের বিরুদ্ধে যে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে, সেটিও লঙ্ঘন করে।
টিএ/