ফেডারেল অনুদান ও ঋণ বিষয়ে ট্রাম্পের আদেশ আটকে দিল আদালত
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪৮ পিএম | ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অনুদান ও ঋণ স্থগিতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ আটকে দিয়েছেন দেশটির আদালত। এতে ট্রাম্পের আদেশের কিছু অংশ আপাতত আর কার্যকর হচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ফেডারেল অনুদান ও ঋণ স্থগিত করার কথা থাকলেও সময় অতিক্রমের আগ মুহূর্তে সে আদেশ আটকে দেন ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ লরেন আলী খান।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আদেশ কার্যকর হলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সড়ক নির্মাণ পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে অভিযোগ জানায় কয়েকটি সংগঠন। এরপরই এই সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে বলে জানায় আদালত।
ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক সংস্কার পরিকল্পনার অংশে ফেডারেল অর্থসহায়তা বন্ধের ওই সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইতোমধ্যে তিনি বৈদেশিক সহায়তা বন্ধ, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ স্থগিত, বিভিন্ন সংস্থায় বৈচিত্র্যমূলক নিয়োগ বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এমনকি সরকারি ব্যয় কমাতে গত ২৮ জানুয়ারি ফেডারেল চাকরিজীবীদের স্বেচ্ছায় অবসরের প্রস্তাবও দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। ফেডারেল অনুদান ও ঋণ বন্ধের সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিধ্বংসী বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা।
ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশটিকে বিবেচনাহীন এবং কংগ্রেসের অর্থবিল অনুমোদনের ক্ষমতার ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন তারা। ট্রাম্পের আদেশের কারণে চিকিৎসক ও স্কুল শিক্ষকদের বেতনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থপ্রদানে বিঘ্ন ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এটি বাজেট নিয়ন্ত্রণের জন্য অতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তাদের দাবি, ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ হলে আমেরিকানদের সরাসরি সেবায় নিযুক্ত প্রোগ্রামে কোনও সমস্যা হবে না। হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের বিষয়ে প্রশাসন অত্যন্ত সচেতন। সেবামূলক কাজে কোনো আমেরিকানের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
অবশ্য স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী অর্থ বিতরণ স্থগিত হলে এ খাতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের এমন মন্তব্যের বিপরীতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ফেডারেল সহায়তা প্রোগ্রামগুলো যেন প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতেই অনুদান ও ঋণ প্রদানের রাশ টেনে ধরার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমেরিকা ফার্স্ট, অর্থাৎ সবার আগে দেশ- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে লক্ষ্য বাস্তবায়নেই নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।
টিএ/