© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সাগরে ভেসে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছালো ৭৬ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন:
সাগরে ভেসে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছালো ৭৬ রোহিঙ্গা

ছবি: সংগৃহীত

করবী শীহাব
০৫:৫৩ পিএম | ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫
সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ৭০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন। সেসব রোহিঙ্গাদের বহনকারী কাঠের নৌকা দেশটির আচেহ প্রদেশের উপকূলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ওই রোহিঙ্গাদের নামতে দিতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেখানে নামেন তারা। ৩০ জানুয়ারি এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা প্রায় সময়ই নৌকায় চেপে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

আঞ্চলিক পুলিশের প্রধান নোভা সূর্যদারু রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ায় আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৪০ জন পুরুষ, ৩২ জন নারী ও চার শিশু। নৌকাটি বিকেলে সমুদ্র সৈকতে পৌঁছালেও রোহিঙ্গাদের নামতে দিতে অস্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশেষে রাত ৮টার দিকে তাদের নৌকা থেকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়। পরে তাদের অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রয়টার্স বলছে, এর আগে জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে ২০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছায়। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের জানায়, ২০২৩ সালে ২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছিল। ইন্দোনেশিয়া ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। তবে দেশটিতে শরণার্থীরা পৌঁছালে তাদের আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি বলে বিবেচনা করা হয়। ২০১৭ সালের পর এই ধারণা আরও বেশি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সামনে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালাতে শুরু করে।

বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।প্রতি বছর নভেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে যখন সমুদ্র শান্ত হয়, তখন মিয়ানমারের নির্যাতিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা কাঠের নৌকায় করে প্রতিবেশী থাইল্যান্ড এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি জমিয়ে থাকে।

টিএ/

মন্তব্য করুন