দাসত্ব আইনের সুযোগ বন্ধ, চাপের মুখে স্টার্মার
ছবি: সংগৃহীত
০২:১২ পিএম | ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
যুক্তরাজ্যের দাসত্ব আইনের সুযোগ নিয়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের আর নিরাপত্তা দেবে না বৃটিশ সরকার। এমন ঘোষণা দিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি জানান, সরকার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দাসত্বের নতুন ধরনসহ মানবাধিকার আইনের আওতায় নিরাপত্তা, আবাসন এবং সর্বপোরি নাগরিকত্ব দেয়া নিষিদ্ধ রাখতে চায়।
তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার সচেতন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, যা যুক্তরাজ্যে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিষয়ে কঠোর না হতে চাপে ফেলেছে প্রধানমন্ত্রী স্টার্মারকে।
গেল বছর জুলাইয়ে আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে লেবার পার্টি। এর আগে টানা ১৪ বছর দেশটিতে শাসন করে কনজারভেটিভ পার্টি। সাবেক কনজারভেটিভ সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, তারাও অভিবাসন প্রত্যাশীদের ওপর এই বিশেষ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবে।
যে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাজ্য থেকে বের করে দেয়া হতো, তারা অনেক ক্ষেত্রে নব্য দাসত্ব আইনের অধীনে নিরাপত্তা দাবি করতেন। এতে যুক্তরাজ্য থেকে তাদের বিতাড়িত করা বেশ কঠিন হয়ে যেতো। বৃটিশ সরকার সে অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও আবাসন দিতে অনেকটাই বাধ্য থাকত।
তবে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির গৃহীত ও প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি সমর্থিত নতুন নিষেধাজ্ঞাটি এই নিরাপত্তাকে নাকচ করে। নিষেধাজ্ঞায় আরও বলা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরও যুক্তরাজ্য থেকে বিতাড়িত করার আগে পর্যালোচনার জন্য ২৮ দিন আটক রাখা যাবে।
প্রতিবছর হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী নৌকা কিংবা ছোট জাহাজে চেপে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এমন অভিবাসনকে অবৈধ ও অনৈতিক উল্লেখ করে শঙ্কা জানান বৃটিশ ভোটাররা। জানান, ক্রমবর্ধমান অভিবাসী ঢল তাদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে গত বছর নির্বাচনি প্রচারে লেবার নেতা স্টারমার প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি মানব পাচারের সংগঠিত চক্রগুলোকে ভেঙে দেবেন। সে লক্ষ্যে, গত ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন বিষয়ক বিল পেশ করে তার সরকার। বিলটি পাস হলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মোবাইল জব্দ করে মানব পাচারকারীদের শনাক্তের অধিকার পাবে পুলিশ।
আপাতদৃষ্টিতে বিলটিকে যুক্তরাজ্যের জনগণের জন্য মঙ্গলজনক ভাবা হলেও এর বিরোধিতা করছেন বেশ কয়েকজন লেবার মন্ত্রী। তারা জানান, ২০২৩ সালে একই নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিয়েছিল ঋষি সুনাকের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি। সে সময় ওই বিলের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে ভোট দেন লেবার এমপিরা। তাদের যুক্তি ছিল, ২০২৩ সালে বিলটির বিরোধিতা করা না হলে যুক্তরাজ্যে পাচার হয়ে আসা নারীদের বাড়তি সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হতো না।
তবে ২০২৫ সালের শুরুতে এমন কী বদলে গেল, যা স্টারমারকে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করল? এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি স্টারমার। এমনকি তার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
টিএ/