ইউএসএআইডি সন্ত্রাসী সংগঠন : ইলন মাস্ক
ছবি: সংগৃহীত
০৫:২৮ পিএম | ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডিকে ‘সন্ত্রাসী সংস্থা’ আখ্যা দিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। এক ঘোষণায় তিনি বলেন, এই সংস্থা বন্ধ করে দেয়া উচিত। মাস্কের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের অর্থায়নে পরিচালিত সংস্থার গোপন নথি তার প্রতিনিধিদের দেখতে দেয়নি ইউএসএআইডি’র নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
ট্রাম্প প্রশাসনের অতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রাখা মাস্ককে গেল মাসে বেশ কয়েকবার ইউএসএআইডির কার্যালয়ে দেখা গেছে। এ সময় তার এবং তার প্রতিনিধিদের কাছে থেকে সংস্থাটির অতি গোপনীয় নথি নাগালের বাইরে রাখায় সংস্থাটির দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় ট্রাম্প প্রশাসন।
ইলন মাস্ক তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ইউএসএআইডি বন্ধ করে দেয়ার সময় এসেছে। মাস্কের অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে ইউএসএআইডির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তাসংক্রান্ত ছাড়পত্র না থাকায় মাস্কের ডিওজিই প্রতিনিধি দলকে সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকতে দেয়া হয়নি।
সরকারি ব্যয়, আমলাতন্ত্র ও নিয়ন্ত্রণ কমানোর উদ্দেশ্যে ইলন মাস্কের নেতৃত্বে ডিওজিই নামের এই বিভাগটি গঠন করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে তিনি নির্বাহী আদেশে সই করলেও এটি কোনো সরকারি বিভাগ নয়। ইউএসএআইডির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিবাদের জড়ানোর একপর্যায়ে গোপন নথি সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে সক্ষম হন মাস্কের প্রতিনিধি দল। সে সময় তারা ইউএসএআইডিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে সংযুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেন।
ইলন মাস্কের প্রতিনিধি দলকে বাধা দেয়ার ঘটনায় ইউএসআইডি কর্মকর্তাদের কটাক্ষ করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সংস্থাটি ‘বদ্ধ উন্মাদেরা’ চালাচ্ছেন। এ সংস্থা টিকিয়ে রাখার ভবিষ্যত নিয়েও তার প্রশাসন বিবেচনা করছে বলে জানান ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের করের টাকায় বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা সরবারহ করে ইউএসএআইডি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েন চলা দেশগুলোও উন্নয়নমূলক কাজে দাতব্য সংস্থাটির অর্থায়ন পায়। আর এতেই সংস্থাটির ওপর চটেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার হিসেবে, ‘আমেরিকা ফার্স্ট অর্থাৎ সবার আগে দেশ’ পররাষ্ট্র নীতির সঙ্গে সংস্থাটির কোনো সামঞ্জস্য নেই।
স্বাতন্ত্র্য সংস্থাটির ব্যাপারে ইলন মাস্ককে নজিরবিহীন ক্ষমতা দেয়ার মাধ্যমে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কঠোর অবস্থান আরও পরিষ্কার করল। ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক মনে করেন, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।
ট্রাম্প এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ না করে বলেন, ‘ইউএসএআইডি কিছু বদ্ধ উন্মাদ মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা তাদের বের করে দিচ্ছি। এরপর আমরা সংস্থাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
এদিকে গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে অফলাইনে চলে যায় ইউএসএআইডির ওয়েবসাইটটি। খুঁজে পাওয়া যায়নি এটির এক্স হ্যান্ডেলও। বিশ্বের কোনো প্রান্ত থেকেই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। এমন অবস্থায় দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে সংস্থাটির জন্য আলাদা পেজ খোলা হয়।
টিএ/