© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কাশ্মির ইস্যু : ভারতকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব শেহবাজ শরিফের

শেয়ার করুন:
কাশ্মির ইস্যু : ভারতকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব শেহবাজ শরিফের

ছবি: সংগৃহীত

তাহমিনা তাশরিফ
১১:৫১ এএম | ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
গত প্রায় আট দশক ধরে চলমান কাশ্মির সংকট সমাধান করতে চায় পাকিস্তান। এ নিয়ে ইসলামাবাদ দিল্লির সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত। এমনটিই জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভার বিশেষ ভাষণে কাশ্মিরের স্বাধীনতা ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। বলেন, ভারতের সঙ্গে কাশ্মির সংকটের সমাধানের আগে রাজ আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যেখানে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বিনা সংকোচে আলোচনা করতে পারবেন।

সে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ভারতশাসিত কাশ্মিরকে পূর্বের স্বায়ত্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে নয়াদিল্লিকে আহ্বান জানিয়েছেন শেহবাজ শরিফ। পাশাপাশি কাশ্মিরের জনগণের প্রতি পাকিস্তানের আদর্শগত, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

ভাষণে পাকিস্তান মুসলিম লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে কাশ্মিরসহ সব কূটনৈতিক সমস্যার সমাধান অস্ত্র নয়, আলোচনার মাধ্যমে করতে চাই।’ এ বিষয়ে দিল্লিকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শেহবাজ শরিফ। বলেন, কাশ্মিরকে জোরপূর্বক দখল করার চিন্তা থেকে মোদী সরকারের বেরিয়ে আসা উচিত। সেই সঙ্গে জাতিসংঘে ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার তাদের এগিয়ে আসা উচিত।’

কাশ্মির কেন্দ্রিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধেও দিল্লির সহায়তা চান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতের আধা সামরিক বাহিনী-সি/আর/পি/এফ এর গাড়িতে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় ৪০ জনের বেশি জওয়ান নিহত হন। তদন্তে জানা যায়, হামলার মূল হোতা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই মোহাম্মদ।

ওই ঘটনার ৬ মাস পর ৫ আগস্ট পার্লামেন্টে ভোটের ভিত্তিতে ভারতের সংবিধান থেকে ৩৭০ নম্বর ধারা বিলোপ করে নয়াদিল্লি। সে ধারায় জম্মু এবং কাশ্মিরকে ‘স্বায়ত্বশাসিত রাজ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল। সাংবিধানিক ধারা বিলোপ করে জম্মু-কাশ্মিরকে সরাসরি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনেন। এখনও সেই অবস্থাই বহাল আছে। এতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও মুখ থুবড়ে পড়েছে। যার ভুক্তভোগী হচ্ছেন কাশ্মিরের লাখো জনতা।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কাশ্মির সংকট সমাধান চাইলেও ভিন্ন কথা বলছেন দেশটির সেনাপ্রধান। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আজাদ কাশ্মিরের মুজাফফারবাদে জেনারেল অসীম মুনির বলেন, ‘ভারতের অধীনে থাকা কাশ্মিরও পাকিস্তানের অংশ হবে।’

তার ভাষ্যে, ভারতশাসিত কাশ্মিরের মানুষ পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হতে কয়েক দশক ধরে লড়াই করছেন। তাদের সেই লড়াইয়ে ইসলামাবাদের পূর্ণ সমর্থন আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কাশ্মীরের সে লড়াইয়ে পাকিস্তানের সমর্থনের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারিও দেন জেনারেল মুনীর।

এ সময়, ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মিরের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। তিনি আশ্বস্ত করেন, জম্মু কাশ্মিরে হিন্দুবাদীদের ক্রমবর্ধমান অত্যাচার ও নির্যাতন প্রতিরোধে প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করতেও প্রস্তুত ইসলামাবাদ।

টিএ/

মন্তব্য করুন