অভ্রের জনকের হাতে উঠতে যাচ্ছে একুশে পদক
ছবি: সংগৃহীত
০৪:০৩ পিএম | ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ভার্চুয়াল জগতে বাংলা ভাষার প্রসারে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা বাংলা কী-বোর্ড ‘অভ্র’। এই অনবদ্য আবিষ্কারের জন্য কিবোর্ডটির জনক মেহেদী হাসান খান পেতে যাচ্ছেন অমর একুশে পদক। দেশের বিশিষ্ট ১৩ ব্যক্তির সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক পাচ্ছেন তরুণ এই উদ্ভাবক।
একুশে পদক পেতে যাওয়া মেহেদী হাসান বর্তমানে পেশায় একজন চিকিৎসক। অভ্র প্রোগ্রামিং করার সময়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ছিলেন মেধাবী মেহেদী হাসান খান। কিন্তু শিক্ষকরা বলেছিলেন, মেডিকেল কলেজ ছেড়ে দেওয়া উচিত মেহেদীর।
কারণ,ডাক্তারির পড়াশুনা বাদ দিয়ে, দিন-রাত এক করে, খাওয়া-ঘুম ভুলে হোস্টেলের ঘরেই একটা ছোট্ট কম্পিউটার সম্বল করে মেহেদী তখন লড়ছিলেন অন্য লড়াই। বাংলা ভাষা কিবোর্ডে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য লড়াই। ১৮ বছর বয়সের যুবক স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলা ভাষাকে সারা পৃথিবীর কাছে খুব সহজে পৌঁছে দেওয়ার। কম্পিউটারে বাংলা লিখতে তাঁর খুব অসুবিধা হয়, এবং সেই পদ্ধতি মেহেদীর পছন্দ নয়। তাই তিনি চান এমন একটা সফটওয়্যার, যার সাহায্যে ইংরেজি অক্ষরে টাইপ করেই বাংলা লেখা সম্ভব।
সেই স্বপ্ন ও প্রচেষ্টা সাথে নিয়েই উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে যান মেডিকেলে পড়তে। বন্ধুরা মেহেদীকে বলতো পাগল। কারণ ডাক্তারি পড়তে এসে কেউ সময় নষ্ট করে! তাও আবার নাকি বাংলা লেখার সুবিধার্থে! কিন্ত হাল ছাড়েননি মেহেদী।
২৬ মার্চ,২০০৩ সাল, দিনটি মেহেদীর জীবনে শুধু নয়। লক্ষ কোটি বাঙালির টাইপিং কাজের জন্য একটি বিশেষ দিন। সেই দিন মেহেদী বিশ্বের সামনে আনলেন ‘অভ্র’ সফটওয়ার। যা আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের সব চেয়ে পছন্দের বাংলা রাইটিং সফটওয়ার। বর্তমানে দেশের কম্পিউটার, ল্যাপটপ খুললেই স্ক্রিনে একটি স্লোগান ভেসে ওঠে , ‘ভাষা হোক উন্মুক্ত’। এটিই ডাক্তার মেহেদী হাসান খানের তৈরি করা স্লোগান। তাঁর স্বপ্ন ছিল, ভাষাকে উন্মুক্ত করতে হবে সবার জন্য, বেঁধে রাখা যাবে না জটিলতার নাগপাশে।
মেহেদী হাসান খানের এই প্রচেষ্টাকে এবার স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে বাংলা একাডেমি। ২০২৫ এর ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তার হাতে তুলে দেয়া হবে বেসামরিক ব্যক্তিদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরুষ্কার একুশে পদক। মেহেদী হাসানের এই পুরুষ্কারটি পাওয়ার খবরে ব্যাপক সাড়া পরেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। অভ্র কিবোর্ডের সাথে পরিচিত নয় এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই এই উদ্ভাবকের পুরুষ্কার প্রাপ্তিকে বেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন নেটিজেনরা।
টিএ/