টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ট্রাম্পের চেয়ারে বসা মাস্ক!
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৭ এএম | ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
বিশ্ব ধনকুবের ইলন মাস্ককে অসীম ক্ষমতা দিয়ে রেখেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শপথ নিয়েই সই করেছেন এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মাস্ককে আনুষ্ঠানিক নিয়োগ না দিলেও তার ক্ষমতা যেকোনো সরকারি কর্মকর্তার চেয়ে বেশি।
কাগজে কলমে মাস্কের পদবি ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি-ডি/ও/জি/ই প্রধান। কিন্তু তিনি নাক গলাচ্ছেন গোটা ট্রাম্প প্রশাসন পরিচালনায়। মাস্ক হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট- এমন গুঞ্জনও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।
অবশ্য সে গুঞ্জন মাছি তাড়ানোর মতো উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বারবার মাস্কের সাফাই দিয়ে গাইছেন একই গান। বলছেন, মাস্কের প্রতিটি সিদ্ধান্তই অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্পের অনুমতি ছাড়া এক পাও নড়ছেন না মাস্ক। এমনকি তার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার মূল যোগ্যতা নেই ইলন মাস্কের। তিনি জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন।
তবুও মাস্কের প্রেসিডেন্ট হওয়ার গুঞ্জন থামছে না। এবার সে গুঞ্জন আরও শক্তপোক্তভাবে ফের চাওর হয়েছে টাইম ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক প্রচ্ছদে। এতে দেখা গেছে, হোয়াইট হাউসের রেজলুট ডেস্কের পেছনে বসে আছেন ইলন মাস্ক।
এ চেয়ারটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চেয়ার। অর্থাৎ বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে চেয়ারটিতে বসার অধিকার কেবল এবং কেবল মাত্র ডনাল্ড ট্রাম্পের। টাইম ম্যাগাজিনকে সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখেন ট্রাম্প। ফলে সে ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে মাস্কের এমন বিতর্কিত ছবি ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
যদিও এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি, তবে মাস্ক প্রশ্নে তিনি ফের সাফাই গাইতে পারেন- সে সম্ভাবনাই প্রকট। অবশ্য ৭ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মজা করে ট্রাম্প বলেন, ‘টাইম ম্যাগাজিন কি এখনও ব্যবসায় টিকে আছে? আমি তো জানতামই না!’
এর আগে ২০২৪ সালে টাইমের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন ট্রাম্প। এর আগে তার নিজের নামে একটি জাল টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ বানানোর জন্যও সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। টাইম ম্যাগাজিনের কভারে ট্রাম্পের ছায়ার বাইরে কোনো উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তৎকালীন প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননকে ‘দ্য গ্রেট ম্যানিপুলেটর’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
টিএ/