২৭ বছর পর দিল্লির মসনদে মোদী, যে কারণে রাজ্য হারাল এএপি
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১৭ পিএম | ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
দিল্লিতে অবশেষে ভোট খরা কাটাতে সমর্থ হল কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। বিধানসভা নির্বাচনে ২৭ বছর পর জয় পেয়ে দিল্লি মসনদের ক্ষমতায় ফিরল নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি। আর এর মধ্য দিয়েই রাজধানী অবসান ঘটল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির এক যুগের শাসনের।
বিজেপির জয়ে যত না উচ্ছ্বসিত দলের নেতাকর্মীরা, তার চেয়ে বেশি হতবাক এএপি নেতারা। ১২ বছর ধরে টানা দিল্লি শাসন করা দলের এমন করুণ পরিণতি মানতে পারছেন না তারা। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ভোট হয় দিল্লি বিধানসভার। ভোটের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হয় ৮ ফেব্রুয়ারি।
সকাল থেকেই ভোটের ফলে এগিয়ে থাকতে দেখা যায় বিজেপিকে। বেলা শেষে পূর্ণাঙ্গ ফলে উঠে আসে মোদী নেতৃত্বাধীন দলের জয়ের খবর। ৭০ আসনের মধ্যে ৪৮টিতে এগিয়ে বিধান সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে বিজেপি। অন্যদিকে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের দল ঝুলিতে পুরেছে ২২ আসনের জয়।
এবারের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থানের সাথে সাথে পিছিয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট এএপি নেতা। দলের জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল খোদ হেরেছেন নিজ আসনে। সুবিধা করতে পারেননি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মনীশ সিসোদিয়া এবং সৌরভ ভরদ্বাজও।
এএপির এই ভূমিধ্বস হারের কারণ হিসেবে কেজরিওয়ালের দূরদর্শিতার অভাবকে দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, গেল বছর আবগারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাভোগ করাই কাল হয়েছে কেজরিওয়ালের জন্য। ভোটের আগে জামিনে মুক্তি পেয়েও জনসমর্থন ফিরে পেতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
কেউ আবার বলছেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লিবাসীর প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। এএপি নেতারা বলেছিলেন তাদের দল ক্ষমতায় এলে দিল্লির নারী ভোটাররা বিনামূল্যে নিত্যপণ্য পাবে। তবে গত ১২ বছরেও সে নিরবাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি দলের কোনো নেতা। আইনতও এটি সম্ভব ছিল না। তবুও মানুষ আশায় বুক বেধে এএপিকে ভোট দিয়েছিল।
এবার মধ্যবিত্তের ভোটের কারণেই দিল্লিতে বাজিমাত করেছে মোদী সরকার- এমন মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ রশিদ কিদওয়াই। তার মতে, গত নির্বাচনে যে মধ্যবিত্ত শক্তি এএপিকে সমর্থন করেছিল, তারাই এবার কেজরিওয়ালের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
বিজেপির পক্ষে ষোলকলা পূর্ণ করেছে কেজরিওয়াল ও তার সহযোগী সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা। দিল্লিবাসীরা বলছেন, যে এএপি নেতারা একসময় ‘নতুন রাজনীতির’ এজেন্ডা নিয়ে সরব হয়েছিলেন এবং সবসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা বলতেন, তারাই ১২ বছর পরে দুর্নীতির অভিযোগে কারাভোগ করেছেন।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল ‘সাধারণ মানুষের’ ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। তাদের বক্তব্য, কেজরিওয়াল বারবার তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেলও শীষমহল মামলায় তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। তার উচিত ছিল বিষয়টি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া।
টিএ/