যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী ধরপাকড়: কি হবে প্রিন্স হ্যারির ভবিষ্যৎ?
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪৪ পিএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের শাসনভার নিয়েই দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসী ধরপাকড়ের নির্দেশ দিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নথিপত্রহীন প্রত্যেক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার। ট্রাম্প তার এই সিদ্ধান্তে অটল থাকলে কি হবে বৃটিশ রাজপরিবারের যুবরাজ হ্যারির ভবিষ্যৎ?
এমনই প্রশ্ন চাওর হয়েছে জনমনে। তবে কি প্রিন্স হ্যারিকেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেবেন ট্রাম্প? আর এমনটি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্র যুক্তরাজ্যর কূটনৈতিক সম্পর্কও কতটা প্রভাবিত হবে? বৃটিশ রাজপরিবারই বা কি পদক্ষেপ নেবে- তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা এখন তুঙ্গে।
অবশ্য সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে প্রিন্স হ্যারি ইস্যুতে সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রিন্স হ্যারিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের কোনো পরিকল্পনা নেই তার। হ্যারিকে তার প্রাপ্য মর্যাদাই দেয়া হবে।
বৃটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্য এবং রাজপরিবারের কট্টর নিয়ম-কানুনের বাইরে স্বাধীন জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হন প্রিন্স হ্যারি। ২০২০ সালে স্ত্রী মেগান মার্কেল ও সন্তান নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থায়ী হন তিনি। এ নিয়ে নানা সময়ে মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন আনুষ্ঠানিকভাবে রাজকীয় পদ ছেড়ে দেয়া এই যুবরাজ।
সম্প্রতি হ্যারির যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভিসার আবেদনে তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন। গোপন করেছেন অতীতে মাদক সেবনের তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে— ভিসার আবেদনে মাদক গ্রহণের তথ্য গোপন করলে, সেটি বাতিল হতে পারে। অথচ নিজের আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’ বইতে হ্যারি নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি অতীতে মাদক সেবন করেছেন।
প্রিন্স হ্যারির এমন অকপট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নজরে আসে ওয়াশিংটনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের। হ্যারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এখনই এটা করতে চাই না। হ্যারিকে সব ঝামেলা থেকে ছেড়ে দিতে চাই। এমনিতেই বেচারা নিজের স্ত্রীকে নিয়ে যথেষ্ট সমস্যায় আছেন। আর সমস্যা বাড়াতে চাই না।’
যদিও ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, হ্যারির ভিসা সংক্রান্ত অভিযোগ তিনি খতিয়ে দেখবেন। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, যদি হ্যারি সত্যিই মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভিসা নিয়ে থাকেন, তবে তা গুরুতর অপরাধ হবে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
টিএ/