অভ্রর কারিগর চার বন্ধুই পাচ্ছেন একুশে পদক
ছবি: সংগৃহীত
০৬:০২ পিএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
একুশে পদক একা নিতে সম্মত নন। বন্ধুদের নিয়েই গ্রহণ করবেন অভ্র নির্মাতা। আর তাতে শেষ পর্যন্ত সরকারও রাজি হল। বন্ধুত্বের এমন নজির গড়লেন মেহেদী হাসান খান। মেহেদী হাসান খানের পাশাপাশি এই সফটঅয়্যার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা বাকি ৩জন, রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম এবং শাবাব মুস্তাফাও পাচ্ছেন সম্মনজনক একুশে পদক।
এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন মেহদী হাসান খান একাই। পুরুষ্কার বিমুখ মেহেদী প্রথমে পদক নিতে আপত্তি জানান। এরপরই সম্মত হলেও দাবি জানান তার বাকি তিন বন্ধু, যারা অভ্র তৈরিতে সাথে ছিলেন, তাদেরও কৃতিত্ব দিতে হবে। এব্যাপারে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী তার ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
ফারুকী তার পোস্টে বলেন, “আজকে খুলেই বলা যায়, আমরা জানতাম মেহেদী হাসান খান পুরস্কার গ্রহণ করতে আগ্রহী না। এর আগেও তাকে অ্যাপ্রোচ করা হয়েছিলো। তিনি পুরস্কার না নিতে পারেন জেনেও আমাদের ক্যাবিনেট থেকে আমরা পুরস্কার ঘোষণা করতে সম্মত হই। এর মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চেয়েছি আমরা কাদের সেলিব্রেট করবো।”
ওই পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কালকে তার সঙ্গে যখন কথা হয়, তিনি তখনও অসম্মতই ছিলেন। অবশেষে তিনি পুরস্কার নিতে সম্মত হয়েছেন। কিন্তু তিনি একা এই কৃতিত্ব নিতে চাননি। তার আরও তিন বন্ধু- রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম এবং শাবাব মুস্তাফা; যারা এই অভ্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তাদের ছাড়া তিনি পুরস্কার নিতে চাননি।”
মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর পোস্টে আরো লেখেন “আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে যাওয়া এই চার গুণীকেই অভ্রর জন্য দলগতভাবে একুশে পদকে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’ অবশেষে মেহেদী হাসান খান, রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম এবং শাবাব মুস্তাফা – চার জন পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে আসছেন পুরস্কার গ্রহণ করতে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় মেহেদী হাসান খান অভ্র কি-বোর্ড ডেভেলপ করেন। ২০০৩ সালের বিজয় দিবস উপলক্ষে এই কিবোর্ডটি উন্মুক্ত করা হয়। এটিই প্রথম কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য বিনামূল্যের কোনো বাংলা কি-বোর্ড। বিজয় দিবসে উন্মুক্ত হওয়ায় এর স্লোগান হয় “ভাষা হোক উন্মুক্ত।”
টিএ/