দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদন : ১২ দেশে টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত
ছবি: সংগৃহীত
০৬:১১ পিএম | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
১২ দেশে চলছে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের তদন্ত। কেবল লেবার এমপি টিউলিপই নন, অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের বিরুদ্ধেও। দুর্নীতি দমন কমিশনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং তার কিছু অংশ দিয়ে বিদেশে সম্পত্তি কেনার অভিযোগ উঠেছে। সে তালিকায় যুক্তরাজ্যের লেবার এমপি টিউলিপ এবং তার পরিবারেরও নাম রয়েছে।
দুদকের এক মুখপাত্র দ্য টাইমসকে জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে কেবল যুক্তরাজ্যেই নয়, অন্য দেশেও অর্থ পাচার করেছেন শেখ হাসিনা ও তার পরিবার। সে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য আইনি সহায়তা চেয়েছে দুদক।
শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্তের অংশ হিসেবে ১০ থেকে ১২টি দেশের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তবে টিউলিপ সিদ্দিকের বিষয়ে কতগুলো দেশের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। গেল ডিসেম্বরে টিউলিপ সিদ্দিকের নাম উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে দুদক। পুর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করতে ১২০ দিন সময় চাইলেও প্রয়োজনে সে সময় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও জানায় দুদুক। তদন্তে টিউলিপ সিদ্দিক দোষী প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে প্রত্যর্পণের জন্য পদক্ষেপ নিতে পারবে।
তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা যৌথভাবে টিউলিপ ও তার পরিবারের সন্দেহজনক লেনদেনের নথি পর্যালোচনা করছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহভাজন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক।
এদিকে, বৃটেনের ‘ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি’ কর্মকর্তারা জানুয়ারির শেষ দিকে ঢাকায় এসে দুদকের তদন্ত কাজে সহায়তা করেছেন। দুদকের তথ্যমতে, তিনটি পৃথক তদন্তে শেখ রেহানা কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকের নাম এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, তার খালা অর্থাৎ শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে জমি বরাদ্দ দিতে প্রভাব খাটানো এবং বিদেশে অর্থ পাচার।
এদিকে বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন বৃটিশ পার্লামেন্টের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ। তার মুখপাত্রের দাবি, কোনো অভিযোগের পক্ষে এবং টিউলিপের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি। বাংলাদেশের সঙ্গে টিউলিপের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি একজন বৃটিশ এমপি, নিজেকে সেভাবেই তিনি উপস্থাপন করেছেন।’
গত জানুয়ারিতে টিউলিপের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে যুক্তরাজ্য সরকার। স্বাধীন উপদেষ্টার অধীনে হওয়া তদন্তে টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ফ্ল্যাট উপহার নেয়ার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাসীন শেখ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি নিজ দল লেবার পার্টির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছেন- এমন মন্তব্য করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। তীব্র সমালোচনা ও দলের ভাবমূর্তির কথা বিবেচনায় যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার দলের মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন টিউলিপ।
টিএ/