© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নতুন মুখ্যমন্ত্রী’র পরিবর্তে কেন রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হলো মণিপুরে?

শেয়ার করুন:
নতুন মুখ্যমন্ত্রী’র পরিবর্তে কেন রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হলো মণিপুরে?

ছবি: সংগৃহীত

তাহমিনা তাশরিফ
১২:৫৩ পিএম | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
মণিপুরে বিধানসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও কেন জারি হলো রাষ্ট্রপতির শাসন? কেন কেন্দ্রে বিজেপি সরকার থাকার পরও উত্তর-পূর্ব রাজ্যটিতে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলো মোদী সরকার? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

সহিংসতায় জর্জরিত রাজ্যটিতে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে মতানৈক্য না হওয়ায়ই জারি হয়েছে রাষ্ট্রপতির শাসন। সদ্যসাবেক মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংয়ের পদত্যাগ করার পরপরই মণিপুরে সরকার গঠনের চেষ্টা করে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলের সাংসদ সম্বিত পাত্রকে মণিপুরে সরকার গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার দায়িত্ব দেন মোদী। সম্বিত পাত্র একাধিকবার এ নিয়ে রাজ্য বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। কিন্তু নতুন মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মণিপুরে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে রাজ্যের সরকার আর সংবিধান অনুসারে কাজ করতে পারছে না। মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে মতৈক্য না হওয়ার কারণ হিসেবে জন জাতিদের দল এ/টি/এল/এফের নেতা গিনজা ভুয়ালজং জানান, মেইতেই সম্প্রদায় থেকে কাউকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত করা হলে তারা অস্বস্তি বোধ করতেন। জনজাতি কিছুতেই তাকে মানতে পারতেন না।

কুকি-জো সম্প্রদায় সহিংসতার পর থেকে আর মেইতেইদের বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অবস্থায় রাষ্ট্রপতি শাসন হয়েই ভালো হয়েছে। রাজনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা আছে। বিধায়কদের ঐক্যমতে নতুন মুখ্যমন্ত্রী মনোনয়নের একটা আশা এখনও থাকছে।’

ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তার ভাষ্য, বিজেপি’র মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে প্রবল বিরোধ ছিল। কুকি বিধায়করা মেইতেইদের থেকে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রবল বিরোধী ছিলেন। মেইতেইদের দাবি ছিল, তাদের মধ্যে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। তাছাড়া মেইতেই নেতারাও কোনো একটি নাম নিয়ে একমত হতে পারেননি।’

মণিপুরে বিধানসভা বহাল রেখেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে। এই বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালে। মণিপুরে বিজেপি সভাপতি এ সারদা জানান, পরিস্থিতি ভালো হলে, আবার সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। গুপ্তা অভিযোগ করে বলেন, ‘মণিপুর গত দুই বছর ধরেই জ্বলছে, অথচ কেন্দ্রীয় সরকার চুপ করে বসে আছে। দিল্লি ও মুম্বইয়ের ক্ষেত্রে কি আপনারা এটি কল্পনা করতে পারেন? মণিপুর রাজধানী থেকে এত দূরে বলেই এটা হচ্ছে। উত্তরপূর্বের জন্য কেউ ভাবে না।”

বিরোধী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী উস্কানি দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতির শাসন জারির মধ্য দিয়ে বিজেপি স্বীকার করে নিল, মণিপুর শাসন করার ক্ষমতা তাদের নেই। মণিপুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর তার দায় এড়িয়ে যেতে পারবেন না।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের ভাষ্য, ‘মণিপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে গত দুই বছর ধরেই কংগ্রেস রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানিয়ে আসছিল। ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে এখন পর্যন্ত রাজ্যটিতে তিনশ'র বেশি মানুষ মারা গেছেন। ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি বলেছে, রাজ্যের সাংবিধানিক ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে।’ এমন অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দল নয় বরং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির অধীনে শাসন পরিচালনায় সর্বোত্তম উপায় হিসেবে দেখছেন অন্য বিরোধী নেতারাও।

মন্তব্য করুন