© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইউরোপীয় সশস্ত্র বাহিনী গঠনের সময় এসেছে: জেলেনস্কি

শেয়ার করুন:
ইউরোপীয় সশস্ত্র বাহিনী গঠনের সময় এসেছে: জেলেনস্কি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২৯ এএম | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
আত্মরক্ষার জন্য ইউরোপের দেশগুলোকে নিয়ে একটি সম্মিলিত সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্রনীতি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, 'অতীতের খাতিরে বহুদিন ইউরোপকে সমর্থন দিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই দিন শেষ।' এদিনের ভাষণে ইউরোপীয় গণতন্ত্রগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন জেলেনস্কি।

জেলেনস্কি বলেন, আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, ইউরোপীয় সশস্ত্র বাহিনী গঠনের সময় এসেছে। তিনি আরও বলেন, গতকাল এখানে মিউনিখে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে পুরোনো সম্পর্কের যুগ শেষ। এখন থেকে পরিস্থিতি বদলাবে এবং ইউরোপকে সেই অনুযায়ী প্রস্তুত হতে হবে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন ন্যাটোর জন্য একটি ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ (সবকিছু নতুন করে শুরু করা) মুহূর্ত, যা জোটকে আরও শক্তিশালী ও বাস্তবসম্মত হতে বাধ্য করবে।

শনিবার জেলেনস্কি বলেন, আসুন স্বীকার করি, এখন আর একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না যে আমেরিকা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে যা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে।

এর আগে, নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধের কথা তেমন উল্লেখ না করেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার বক্তব্যে ইউরোপীয় মিত্রদের তীব্রভাবে আক্রমণ করেন দাবি করে জেলেনস্কি বলেন, 'গতকাল মিউনিখেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কয়েক দশকের পুরনো সম্পর্ক শেষ হতে চলেছে। এখন থেকে সবকিছু বদলে যাবে। ইউরোপকে এই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।'

ইউরোপের একটি সম্মিলিত সামরিক বাহিনী গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'চলুন বাস্তবতা মেনে নেই। এখন ইউরোপ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পরলে যুক্তরাষ্ট্র যে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে, এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারি না আমরা। অনেক নেতাই বলেছেন, ইউরোপের নিজস্ব সেনাবাহিনী গঠন জরুরি।'

ভাষণের একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ তোলেন, বিশ্বকে 'টুকরো টুকরো' করার ষড়যন্ত্র করছে পুতিন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'মনে হচ্ছে, এ মুহূর্তে ন্যাটোর সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য আসলে পুতিন। কারণ, তার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে ন্যাটোর সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে।'

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের পক্ষ থেকে দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো হচ্ছে—ইউক্রেনকে ন্যাটো সদস্যপদের আশা ছাড়তে হবে এবং যুদ্ধে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া ইউক্রেনের চার অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ শেষে এই দুটি শর্তই মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

মন্তব্য করুন