‘ভারতের ভিসা’ নিয়ে জয়শঙ্করকে যা বলেলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি:সংগৃহীত
০৭:৩১ পিএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ভিসা প্রদান, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো, এবং সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত হামলার বিষয় নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। ওমানের রাজধানী মাস্কটে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এই আলোচনা হয় । বিশেষভাবে, ভারতীয় ভিসা ইস্যু নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, “ভারত বাংলাদেশিদের ভিসা কমিয়ে দিয়েছে, যা আমাদের জন্য একটি বড় সমস্যা। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনকে আমরা ভিসা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছি, কারণ এটি নিরাপত্তার অজুহাতে হঠাৎ কমানো হয়েছে। এর ফলে অসুস্থ মানুষদের যাদের ভারতে চিকিৎসার প্রয়োজন, তারা দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশিদের নয়াদিল্লি থেকে ভিসা দেয়, কিন্তু আমাদের নাগরিকরা যদি দিল্লিতে যেতে না পারেন, তাহলে তাদের কী হবে?”
এছাড়া, ভিসা কমানোর সিদ্ধান্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, “এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে না। এখন আমাদের জনগণ ইউরোপের ভিসা পেতে দিল্লির বদলে ভিয়েতনামে যাচ্ছে। অনেকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদেও যেতে চাইছেন, যদিও ঢাকা থেকে ইসলামাবাদের সরাসরি ফ্লাইট নেই।”
সংখ্যালঘুদের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি বলেন, এসব তথ্য মিথ্যা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভারতের সাংবাদিকদের বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানান, যাতে তারা বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে পারেন। তিনি বলেন, “ভারতীয় মিডিয়ায় এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, কিন্তু এগুলো সঠিক নয়। সরকার পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখেছে এবং জনগণ নিরাপদ রয়েছে। বর্তমানে বড় কোনো সংঘাত নেই। আগস্টে যখন সরকার ও পুলিশ ছিল না, তখন সহিংসতা হয়েছিল। সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”
শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে উস্কানিমূলক মন্তব্য না করতে বলা হয়েছে বলে জানান তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, “জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। শেখ হাসিনা ভারতে বসে উস্কানিমূলক কথা বলেছেন, যা তরুণদের মধ্যে সহিংসতা সৃষ্টি করেছে।”
এছাড়া, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, আগস্টের পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা খারাপ হয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য কমেছে। তবে, বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যবসার পরিমাণ বাড়াতে চায় এবং জয়শঙ্করকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, এর তারিখ ভারত ঠিক করবে।