ঝিনাইদহে প্রকাশ্যে ৩ জনকে গুলি করে হত্যা
প্রতীকী ছবি
০৭:৩৭ এএম | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপায় চরমপন্থী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে হানিফ (৫০) নামে এক শীর্ষ চরমপন্থী নেতাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহত হানিফ হরিণাকুন্ডু উপজেলার রামনগর গ্রামের রাহাজুদ্দিনের ছেলে।
নিহত অপর একজনের নাম লিটন (৩৭)। তিনি হরিণাকুন্ডু উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের উম্বাদ আলীর ছেলে। নিহত আরেকজনের পরিচয় জানা যায়নি।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শৈলকূপা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্মশানঘাট মাঠে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামচন্দ্রপুর মাঠে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। গুলির শব্দ থামার পরে স্থানীয়রা সেচ খালের পাশে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ও জখম হওয়া মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মধ্যে হানিফ নামে এক শীর্ষ চরমপন্থী নেতার মরদেহ শনাক্ত করে। তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক শীর্ষ ক্যাডার ও একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি মামলার আসামি।
ওই হত্যার পর বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠায় জাসদ গণবাহিনী। ওই ক্ষুদে বার্তায় লেখা আছে, “এতদ্বারা ঝিনাইদা, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বাশির উদ্দেশ্যে জানানো যাইতেছে যে, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি নামধারী কুখ্যাত ডাকাত বাহিনীর শীর্ষ নেতা অসংখ্য খুন, গুম, দখলদারি, ডাকাতি, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হরিনাকুন্ডু নিবাসী মোঃ হানিফ তার দুই সহযোগী সহ জাসদ গণবাহিনীর সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। অত্র অঞ্চলের হানিফের সহযোগীদের শুধরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো অন্যথায় আপনাদের একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে- কালু জাসদ গণবাহিনী”
শৈলকূপা থানার ওসি মাসুম খান জানান, গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহের শৈলকূপা ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় রামচন্দ্রপুর মাঠ কিছুটা নির্জন। এর আগেও একই স্থানে চাঞ্চল্যকর ‘ফাইভ মার্ডার’ হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে।
ওসি মাসুম খান বলেন, গুলিবিদ্ধ দুইজনের মরদেহ শনাক্ত করা গেছে। বাকি একজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। কি কারণে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নই। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঝিনাইদহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ইমরান জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, “সবাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ একজনের মৃতদেহ শনাক্ত করা গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
জাসদ গণবাহিনীর নামে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমন একটি বার্তা ইতিমধ্যে আমরা পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। কি কারণে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নই।”