বাংলাদেশে কেন রোজা ও ঈদ একদিন পরে হয়?
ছবি:সংগৃহীত
০৯:২৩ পিএম | ০৩ মার্চ, ২০২৫
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা হলেও রমজান মাস বা ঈদ কেনো একদিন পর হয়? বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশে এ নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।
সাধারণত দেখা যায় বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তানে সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর রোজা ঈদ শুরু হয়।
ইসলাম ও বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক ড: শমসের আলী বলছেন ইসলাম ধর্মের বিধান মেনেই মুসলিম বিশ্ব একদিনেই ঈদ পালন করতে পারে। তার মতে চাঁদ নিজের দেশেই দেখতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
তিনি বলেন, "কোরআনে আছে এই মাসের সাক্ষ্য পেলে রোজা রাখবা। নিজে দেখতে বলেনি। কারও সাক্ষ্য পেলে হবে। রসুল সাঃ সাক্ষ্য পেয়ে রোজা ভেঙ্গেছেন। ঈদ করেছেন"।
"সেটা নিজের দেশে হতে হবে তার কোন মানে নেই। ঈমাম আবু হানিফা ও নবী বলে গেছেন যে তোমরা একই দিনে রোজা রাখবে ও রোজা ভাঙ্গবে। চাঁদ উঠে গেলে চান্দ্রমাস শুরু। এটা করলেই আর অসুবিধা হবে না," বলছিলেন তিনি।
শমসের আলী বলছেন মক্কা মুসলমানদের পবিত্র স্থান। সেখানে চাঁদ দেখা গেলে তার ভিত্তিতেই সব মুসলিম দেশে ঈদ পালিত হতে পারে। দেশগুলোর মধ্যে কয়েক ঘণ্টার সময়ের ব্যবধান এক্ষেত্রে বড় কোন সমস্যা নয়।
এছাড়া মুসলিম দেশগুলোর সংস্থা ওআইসিও একই দিনে রোজা ও ঈদের সুপারিশ করেছে।
জ্যোতিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী বলেন, একদিন পরে রোজা ও ঈদের কোনো কারণ দেখছি না। বাংলাদেশে যখন হরাইজন সেন্টারের দুই ডিগ্রি উপরে থাকে। সূর্য না ডুবলে ওই আলোতে চাঁদ দেখা যায় না।
চাঁদ যেহেতু প্রতি ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা সময়ে তার নিজস্ব পরিক্রমণ শেষ করে। ফলে এক চন্দ্রবছর হতে সময় লাগে ৩৫৪ দিন ৮ ঘণ্টা। সে হিসেবে আরবি মাস কখনও ২৯ দিনে আবার কখনও ৩০ দিনে হওয়ার কথা।
এ প্রশ্ন নিয়ে রয়েছে বিতর্ক, রয়েছে মতবিরোধ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানী বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহেদির রশিদ বলেন, একই সময়ে চাঁদ দেখা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য হয়। যেহেতু চাঁদ দেখার প্রক্রিয়াটা পৃথিবীর রোটেশনের সঙ্গে দৃশ্যমান হতে থাকে।
সৌর বর্ষের তুলনায় চন্দ্রবর্ষ ১১ দিন কম থাকে আর এ কারণেই চন্দ্র মাস প্রতি বছর ১১ দিন পেছাতে থাকে যে কারণে সৌরসনের সঙ্গে পরের বছরই দেখা যায় চন্দ্রসনের বড় পার্থক্য।
তবে এ বিষয়ে অভিন্ন সিদ্ধান্তে আসা উচিত বলে মনে করেন বিশেজ্ঞরা।
যেহেতু এক বিশ্ব, একটাই চাঁদ। কিন্তু ভৌগলিক কারণে একেক দেশে দেখা যায় একেক সময় ও একেক দিনে।
চাঁদ দেখে রোজা, চাঁদ দেখেই ঈদ। তাই একেক দেশে একেক সময় চাঁদ দেখা যায় তাহলে রোজা ও ঈদ আলাদা আলাদাভাবে পালন করা হবে নাকি, মুসলিম বিশ্ব একসঙ্গে পালন করবে-এ নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েন মুসলিম উম্মাহ। যদিও বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে একসঙ্গে রোজা-ঈদ পালনে ১৯৮৬ সালে সিদ্ধান্ত হয় ওআইসি সম্মেলনে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ যা মেনে চলে।
২০১৬ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়েছিল তুরস্কের উদ্যোগে। সেখানে তুরস্ক, কাতার, জর্ডান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরোক্কো সহ ৫০টি দেশের ধর্মীয় পন্ডিত এবং বিজ্ঞানীরা অংশ নেন।
ইন্টারন্যাশনাল হিজরি ক্যালেন্ডার ইউনিয়ন কংগ্রেস নামে পরিচিত এই সম্মেলনে হিজরি ক্যালেন্ডার নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের মধ্যে যে বিভক্তি সেটা নিরসনে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সেখানে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই বিশ্বের মুসলিমদের একটি বর্ষপঞ্জীর মধ্যে নিয়ে আসার পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন।
আর সেটি হলে রোজা যেমন একই দিন থেকে শুরু হতো তেমনি ঈদও একই দিন পালন করা সম্ভব হতো।