© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শরীরে ৩০০ গু লি, আর্থিক সংকটে অসহায় সুজনের পরিবার

শেয়ার করুন:
শরীরে ৩০০ গু লি, আর্থিক সংকটে অসহায় সুজনের পরিবার

ছবিঃ সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:০১ এএম | ০৪ মার্চ, ২০২৫
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন। সেদিন স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী ঢাকার বাড্ডায় অনুষ্ঠিত ঘেরাও কর্মসূচিতে হাজারো আন্দোলনকারী অংশ নেন, তাদের মধ্যে ছিলেন সিএনজিচালক সুজনও।

সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ শুরু করলে এক ছাত্র আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। তখন সুজন জীবন বাজি রেখে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান এবং নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। গুলির আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং বিকাল পর্যন্ত সেখানেই পড়ে থাকেন। বাড্ডার রাজপথে পুলিশের টানা গোলাগুলির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে বিকেল ৪টার দিকে আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার আফতাব নগর নাগরিক হাসপাতালে নিয়ে যান।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আহত সুজনকে প্রথমে আফতাব নগর নাগরিক হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে অতিরিক্ত হতাহতের কারণে সেখানেও তাকে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। পরে তাকে গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, যেখানে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারিভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও আর্থিক সংকটের কারণে চরম দুর্দশায় পড়ে তার পরিবার।

সুজন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আহত হওয়ার পর অর্থাভাবে পথে বসতে হয় তাকে। অন্যের সাহায্যে কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করলেও তার খোঁজ নেওয়ার কেউ ছিল না বলে জানান তিনি। বর্তমানে পরিবারসহ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

সুজন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের আকালু গ্রামের মৃত আনছের আলীর ছেলে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাবাকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হন। তখনই পড়াশোনা ছেড়ে রিকশা চালানোর জন্য পাড়ি জমান রাজধানী ঢাকায়। জীবিকার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

সুজন জানান, জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৫ আগস্ট সকালে বাড্ডা থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একতরফা গুলিবর্ষণের মধ্যে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পুলিশের ছররা গুলির ২৯৬টি স্প্লিন্টার তার শরীরে বিদ্ধ হয়। অচেতন অবস্থায় দেয়ালের পাশে পড়ে থাকেন তিনি।

পরদিন সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার জ্ঞান ফিরে। এখনো তার শরীরে স্প্লিন্টার রয়ে গেছে, যা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করছে। ক্রাচের সাহায্যে হাঁটলেও ব্যথা তীব্র হয় এবং শরীর ফুলে যায়। তিনি জানান, কেউ তার খোঁজ রাখছে না, আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তার পরিবারের। এ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন সুজন।

সুজনের স্ত্রী নূপুর বলেন, আহত হওয়ার পর থেকে সংসারে কোনো আয় নেই। এখন খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে। এদিকে সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার পথে। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাস আগে উপজেলা থেকে কিছু সাহায্য পেয়েছিলাম যা আমাদের বেশ উপকার হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আহত স্বামীর চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারছি না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. পপি খাতুন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে এ উপজেলায় একজন নিহত ও তালিকামতে ১৬ জন আহত রয়েছে। এর বাহিরেও আহত থাকতে পারে। নিহত ও আহতদের পরিবারকে সরকারি ও ব্যক্তিভাবে সহযোগিতা প্রদান করে আসছি। আহতদের মধ্যে অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারিভাবে এখনো আহতের কর্মসংস্থানের কোনো নির্দেশ আসেনি। তবে, তারা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়ে সে ব্যাপারে প্রশাসন ও সমাজসেবা কাজ করছে।


এস এস / এস এন

মন্তব্য করুন