© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পাবনায় ইউএনওর কক্ষে জামায়াত নেতাদের মারধর, ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন:
পাবনায় ইউএনওর কক্ষে জামায়াত নেতাদের মারধর, ৫ জনের নামে মামলা

ছবি : সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৫৮ পিএম | ০৮ মার্চ, ২০২৫
পাবনার সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কক্ষে জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমিরসহ চার নেতাকে মারধর ও বালু উত্তোলন বন্ধের ঘটনায় ইউএনওকে হুমকি দেওয়ার জন্য বিএনপির ৫ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
শনিবার (৮ মার্চ) বিকেলে সুজানগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার (৭ মার্চ) রাতে উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা জামায়াতের শিল্প ও বাণিজ্যিক বিষয়ক সেক্রেটারি মো. ওয়ালিউল্লাহ বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মো. মজিবর রহমান খাঁ (৫৫), কালিমন্দির পাড়ার মৃত করিম খাঁর ছেলে মো. মানিক হোসেন খাঁ (৪০), পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বাবু খাঁ (৪৫), মৃত হোসেন শেখের ছেলে আরিফ শেখ, (৩৫) ও মৃত রহমান শেখের ছেলে মো. আব্দুল বাসেদ বাঁশি শেখ (৪২)। এদের মধ্যে আরিফ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সুজানগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ইউএনওর রুমে জামায়াত নেতাদের মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আরিফ খা নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কাজ করছে।

সুজানগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিন বলেন, সরকারি অফিসে এতো বড় একটি চাঞ্চল্যকর ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন মামলা করেনি। আমরা বাধ্য হয়ে মামলার করেছি। দুঃখজনক হলেও সত্য এসব মামলার আসামি উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এখন পর্যন্ত পুলিশ ধরতে পারেনি।

এদের গ্রেপ্তার করা পুলিশের পক্ষে কোনো ব্যাপারই না। অথচ অদৃশ্য কারণে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এসব অপকর্মকারীদের জন্য গত ৬ মাসে ৩ জন ওসি পরিবর্তন হয়েছে। ওদের কথা মতো না চলায় সরকারি কর্মচারীদেরও নাজেহাল হতে হচ্ছে। উপজেলাজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গত ৪ মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জামায়াতের চার নেতা কোনো একটি কাজে ইউএনওর অফিসে যান। কিন্তু ইউএনও অন্য একটি কাজে ব্যস্ত থাকায় জামায়াত নেতারা অফিসে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী বালু উত্তোলন বন্ধ করেছেন কেন জানতে ইউএনওর কাছে যান।

সেখানে আগে থেকেই বসে থাকা জামায়াত নেতাদের দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বলেন- এরা কেন এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে। এ কথা বলেই বিএনপি নেতারা ইউএনওর কক্ষ থেকে বের হয়ে আরও কয়েকজনকে ডেকে আনেন।

এরপরই বিএনপি নেতা মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইউএনওর কক্ষে ঢুকে ওই জামায়াত নেতাদের কিল-ঘুষি, লাথিসহ বেধড়ক মারধর করেন। এ ঘটনায় সুজানগর উপজেলা বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু খাঁ, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মানিক খাঁ এবং সুজানগর এনএ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. শাকিল খানকে দল থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।


এমআর

মন্তব্য করুন