প্রত্যেকটা নারীকে মায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্মান করা উচিত
ছবি : সংগৃহীত
০৯:১৯ পিএম | ০৮ মার্চ, ২০২৫
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীর অবদান, মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি নিয়ে কথা বলেছেন অপু বিশ্বাস। এছাড়াও কথা বলেছেন সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া মাগুরায় শিশু ধর্ষণ ঘটনার প্রসঙ্গেও। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা নানারকম প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ভাবছি নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, আসলেই কি এগিয়ে যাচ্ছে? কোনো না কোনো কারণে আমাদেরকে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা শুধু নারী জাতি কিংবা পুরুষ জাতি না, আমাদের সবার জন্যই লজ্জার। একদম সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা যদি বলি, এটা একদম লজ্জার। যে লজ্জা বাঙালি মানুষ করবে প্রত্যেকের মনুষ্যত্বের জায়গা থেকে।
পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অবদানকে কীভাবে মূল্যায়ন করা উচিত মন্তব্যে অভিনেত্রী বলেন, “প্রত্যেকটা পুরুষের কাছে যেমন তার মাকে শ্রদ্ধার জায়গায় রাখা উচিত, একজন নারীকেও ঠিক সেই জায়গায় রাখা উচিত। একজন নারীর পরিচয় কিন্তু কারো মা, কারো সন্তান আবার কারো স্ত্রী। আমার কাছে মনে হয়, বেলা শেষে নারীর একটিই পরিচয়, আমরা মা। মাকে যে দৃষ্টিকোণ থেকে সম্মান করা উচিত, প্রত্যেকটা নারীকেও সেভাবেই সম্মান দেওয়া উচিত।
শোবিজ নারীদের জন্য কতটা সহায়ক এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, -“এই বিষয়ে আমি কোনো মত পোষণ করতে চাই না। তবে এটা বলতে চাই, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সমাজে পোশাকের বিচরণটা অনেক বেশি সাহসীকতার পর্যায়ে চলে গেছে। এই জায়গাটা একটু হলেও সংযত করা দরকার বলে আমি মনে করছি। আমাদেরকে এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা বাংলাদেশি, আমরা বাঙালি। এক বাক্যে যদি বলি, আমাদের বাংলাদেশ যেই ধর্মকেন্দ্রিক দেশ সেই জায়গা থেকে বিচরণটা সংযত করা উচিত।“
কাজের সুবাদে একজন নারীর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পুরুষের মুখোমুখি হতে হয় কিংবা কাজ করতে গিয়ে অনেক পুরুষের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে পুরুষদের বন্ধু হিসেবে নারীরা কতটা নিরাপদ, জানতে চাইলে অপু বলেন-“এটা নির্ভর করে ব্যক্তির ওপর, তার মানসিকতা কেমন সেটার ওপর। এটা মানুষ ভেদে ভিন্ন হয়। যেমন ধরেন- আমার বাবা-মা কেউই পৃথিবীতে নেই। তাদের সম্মান রক্ষা করা মানেই কিন্তু আমি সম্মানিত হওয়া। আমি সম্মানিত হওয়া মানে মৃত্যুর পরও সে সম্মানটা তাদের ক্যারি করা। সেই জায়গা থেকে আমি যেহেতু অভিনেত্রী পাশাপাশি একজন স্ত্রী ও একজন মা; সেই জায়গা থেকে এই সম্মান ক্যারি করাটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছিলেন কিনা, আর হলেও সেটা কীভাবে প্রতিকার করেছেন সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে সবার প্রিয় শাকিব খানের সঙ্গে, যে আমার সন্তানের বাবা এবং আমার স্বামী। সেই তখন থেকে অর্থাৎ প্রথম দিন থেকে সে (শাকিব) বিভিন্নভাবে আমার কেয়ার করে আসছে। সেই সুবাদে তার সঙ্গে কাজ করতে করতে নিজের একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে। একটা অবস্থান তৈরি হয়ে যাবার পর পরিবেশটা একদম নিজের মধ্যে থাকে। সিনিয়র পার্সোনালিটি এবং সবার কাছে সম্মানের জায়গাটা থাকার কারণে আমাকে কখনোই কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়নি। সেদিক থেকে আমি অনেক বেশি ভাগ্যবতী।
আরএইচ