সম্পর্কের মধ্যে একজনকে অপরের প্রয়োজন বলে মনে না হওয়াই সবছেয়ে সুন্দর সম্পর্ক মনে করেন ক্যাটরিনা কাইফ। প্রেম মন ভালো রাখে। আবার প্রেম সময় বিশেষে মন খারাপও রাখতে পারে। মন খারাপের কুয়াশা যখন প্রেমের জমির দখল নিয়ে বসে, তখন প্রেম মানসিক যন্ত্রণারও কারণ হতে পারে। সেই যন্ত্রণা কখনও সহনীয়, আবার কখনও তা অসহনীয়। প্রেমে থাকা মানুষ দু’টি আচমকাই দিশেহারাবোধ করতে শুরু করেন। ভালোভাবে দম নেওয়ার জন্য খুঁজতে থাকেন আলো-বাতাস। কিন্তু কুয়াশাচ্ছন্ন প্রেম বেশিরভাগ সময়েই সেই প্রয়োজন মেটায় না। ফলে দম ফুরোতে থাকে প্রেমের! সেখান থেকে প্রেম একেবারে ঘুরে দাঁড়াতে পারে না, তা নয়। কিন্তু অধিকাংশ প্রেমেরই সেখান থেকেই মৃত্যু ঘটে। অভ্যাসের মোহটুকু কেটে গেলে হাত ছাড়েন একদা পরস্পরকে ভালবেসে কাছে আসা দু’জন। কিন্তু কেন এমন হয়? কেনই বা সম্পর্কের রং না চাইতেও বদলে যায়? এরই একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ।
বলিউডের মূল ধারার সিনেমার অন্যতম সফল নায়িকা ক্যাটরিনার জীবনে প্রেম এসেছে বার বার। প্রকাশ্যে আলোচনা হয়েছে সালমান খান, রণবীর কাপুরের মতো নায়কের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে। তবে বরাবরই সেগুলো তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ক্যাটরিনা নতুন করে প্রেমে পড়েছেন আবার। জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলিউডের আরও এক অভিনেতা ভিকি কৌশলকে। এই যে একের পর এক সম্পর্ক, তা থেকে তিনি শিক্ষা পেয়েছেন তিনি। ক্যাটরিনাকে প্রশ্নটি করেছিলেন বলিউডের পরিচালক প্রযোজক করণ জোহার। জবাবে ক্যাটরিনা বলেছেন, “আমি বুঝতে শিখেছি নির্ভরশীলতাই প্রেমের ঘুণপোকা। নিজের সুখের জন্য যে মুহূর্তে আপনি উল্টো দিকের মানুষটির ওপর নির্ভর করতে শুরু করবেন, জানবেন, তার কাঁধে আপনি দায়িত্বের বোঝা চাপাচ্ছেন। সেই বোঝা কোনো না কোনো দিন ভারী মনে হতে থাকবে। আর সেখান থেকেই সম্পর্কের শেষের শুরু।”
কেন নির্ভরশীলতা সম্পর্ক নষ্ট করে- এমন প্রশ্নে জবাবে ক্যাটরিনা বলেন, “কেউ দিনের পর দিন আপনাকে সুখী করার দায়িত্ব নিতে পারেন না। কোনো না কোনো পরিস্থিতিতে তিনি ব্যর্থ হবেন। কোনো না কোনো মুহূর্তে তিনি আপনার আশা পূরণ করতে পারবেন না। যদি নিজের সুখের দায়িত্ব অন্যের হাতে দিয়ে দেন, তা হলে সেই দায়িত্ব পালন না হলেই আপনি চাপ তৈরি করবেন, অভিযোগ করবেন, হয়তো বলবেন, আমার এই সম্পর্ক ভাল লাগছে না, তুমি আমাকে খুশি করতে পারছ না। তুমি আমার সুখের পরোয়া করছ না। আর তখনই সম্পর্ক নষ্ট হতে শুরু করবে।”
সম্পর্কে যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য কী করা দরকার- এ প্রসঙ্গে ক্যাটরিনা বলেন, “আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্ক সেটিই যেখানে একজনকে অপরের প্রয়োজন বলে মনে হবে না। যখন দুজনের মধ্যে নির্ভরশীলতা থাকবে না।”
ক্যাটরিনার মতে, “মুগ্ধতাবোধ থাকবে, সম্ভ্রম থাকবে আর থাকবে সাহচর্য। আমার মতে তা হলেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হবে।”
আরএ/টিএ