ট্রাম্পের সহায়তা বন্ধের প্রভাব শুরু আফ্রিকায়, ভয়াবহ রূপ নেয়ার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৭ এএম | ১১ মার্চ, ২০২৫
বিশ্বব্যাপী মার্কিন সহায়তা বন্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আফ্রিকায় চলতি মাস থেকেই ম্যালেরিয়ার উপদ্রব দেখা দিয়েছে, যা অঞ্চলটির সবচেয়ে ভয়াবহ রোগগুলোর একটি। সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বছর
বাজেট ঘাটতি পূরণের নামে ক্ষমতায় এসেই বিশ্বব্যাপী মার্কিন সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের সাবধানবাণী উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) কর্মকাণ্ডও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
বলা বাহুল্য, তার এই সিদ্ধান্তের প্রভাব দেখা যেতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশে। সেই তালিকায় রয়েছে আফ্রিকার কিছু দেশের নামও। দুর্দশাগ্রস্ত এই অঞ্চলটিতে স্বাস্থ্য সহায়তার খরচ বেশিরভাগই আসতো মার্কিন ত্রাণ সংস্থা থেকে। বিশেষ করে ম্যালেরিয়ার ওষুধ এবং মশা নিধনের সরঞ্জাম।
এরমধ্যেই মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো শুরু হয়েছে মশার উপদ্রব। অর্থাৎ, দ্রুত অঞ্চলটিতে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে ম্যালেরিয়া। এ অবস্থায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ এবং মশা মারার সরঞ্জামের অবিচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন বলে জানান বাসিন্দারা।
তবে এবার সেখানে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। মার্কিন সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ম্যালেরিয়া-বিরোধী কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাজারে ওষুধ এবং কীটনাশকেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই।
অঞ্চলটির কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে বলেন, সহায়তা বন্ধ হওয়ায় যাবতীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। বিশেষ করে টেস্ট কিট, মশারি, মশা নিধনকারী স্প্রে আমরা বাইরে থেকে আমদানি করি, যা প্রতিনিয়ত আমাদের প্রয়োজন হয়। কার্যক্রম আটকে যাওয়া মানে এই আমদানিও কমে যাওয়া, যার প্রভাব এই মাস শেষ হলেই টের পেতে শুরু করবে সবাই।
এত বছর ধরে মার্কিন প্রশাসন তাদের ম্যালেরিয়া-বিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইউএসএআইডির মাধ্যমে আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া, কঙ্গো এবং উগান্ডায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়ে আসছে, যা এই বছরই স্থগিত করা হয়। এ অবস্থায় ওয়াশিংটন-ভিত্তিক সংস্থা নো মোর ম্যালেরিয়া বলছে, এক বছরও যদি এই পরিস্থিতি বজায় থাকে তবে বিশ্বজুড়ে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৭ হাজার বৃদ্ধি পাবে।