ভাইরাল জাস্টিন ট্রুডোর অঙ্গভঙ্গি, কিসের ইঙ্গিত?
ছবি:সংগৃহীত
০১:৪১ পিএম | ১২ মার্চ, ২০২৫
পার্লামেন্ট থেকে নিচের চেয়ার নিয়ে বেরিয়ে গেলেন জাস্টিন ট্রুডো। এক হাতে চেয়ার ধরা, ভেঙ্গানোর মতো জিহ্বা বের করা ট্রুডোর এমনই এক ছবিতে সয়লাব সামাজিক মাধ্যমগুলো। আর এতেই আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন কানাডার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
কানাডার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্ট ছাড়ার সময় তাদের আসনটি সাথে নেয়ার অনুমতি পান। তবে ট্রুডোর বিদায়ের সময় তার অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি অনেককে অবাক করেছে। অনেকেই বলছেন এটি পার্লামেন্টকে অসম্মান করার শামিল।
টরন্টো সানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রায়ান লিলি এক্স পোস্টে জানান, যে কোনো সংসদ সদস্য হাউস অব কমন্স ত্যাগ করার সময় তার আসন সঙ্গে নিতে পারেন। এটি কানাডার চমৎকার একটি ঐতিহ্য। সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর ভাইরাল ছবিটি কিছুটা অদ্ভুত।
অনেকে আবার মনে করছেন, এটি আসন্ন নির্বাচনের একটি ইঙ্গিতও হতে পারে। কারণ, পদত্যাগের সময় প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ী বক্তব্যে জাস্টিন ট্রুডো লিবারেল পার্টির ‘সাফল্য’ তুলে ধরেন। সে সময় দলের ভবিষ্যত দিকনির্দেশনা নিয়েও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে।
কানাডার ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, লিবারেল লিডারশিপ কনভেনশনে দেয়া বক্তৃতায় ট্রুডো বলেন, ‘গত ১০ বছরে মধ্যবিত্ত ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষের জন্য আমরা যা করেছি, তা নিয়ে আমি গর্বিত। আমাদের দায়িত্ব হলো কানাডাকে বিশ্বের সেরা দেশ হিসেবে রাখা।’
পদত্যাগের আগে লিবারেল সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন কানাডার উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রতিবেশী দেশের শুরু করা বাণিজ্য যুদ্ধ মোকাবিলা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লিবারেল পার্টি নিরলস কাজ করে যাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জাস্টিন ট্রুডো চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল পার্টির নেতা পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তার সরকারের অধীনে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়, যা তার পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গেল ৯ মার্চ লিবারেল পার্টির নতুন নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন মার্ক কার্নি। আসন্ন নির্বাচনে তিনিই দলকে নেতৃত্ব দেবেন। এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে কার্নি লেখেন, ধন্যবাদ। আসুন, একসঙ্গে শক্তিশালী কানাডা গড়ে তুলি। তিনি আরও বলেন, আমরা তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী থাকি, যখন আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি।
জাস্টিন ট্রুডোর বিদায়ী ভঙ্গি নিয়ে যত বিতর্কই থাকুক, তার নেতৃত্বের সময়কাল নিয়ে আলোচনা আরও অনেক দিন চলবে। নতুন নেতৃত্বে লিবারেল পার্টি কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এসএম/এসএন