ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করবেন কীভাবে?

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দ পরিবার ও প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরছেন। এই যাত্রা যেন নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সুন্দর হয়, সে জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বিত তৎপরতা, যানজট কমানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশনাগুলোর মূল লক্ষ্য। আসুন জেনে নিই, কীভাবে এই ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করা যায়।

১. সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা
ঈদের সময় সারাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

২. অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি
চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি রোধে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। জাল টাকা চেনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করতে হবে।

৩. টহল বাড়ানো
ঢাকার কূটনৈতিক এলাকা, বড় শহর ও বন্দরগুলোতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের টহল বাড়ানো হবে। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

৪. শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ
গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানার মালিকদের ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ করতে হবে। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং শিল্প পুলিশ একসঙ্গে কাজ করে এটি নিশ্চিত করবে।

৫. নিরাপদ কেনাকাটার পরিবেশ
ঈদের কেনাকাটা যেন নির্বিঘ্নে হয়, সে জন্য মার্কেটগুলোতে পোশাকধারী ও নারী পুলিশ মোতায়েন করা হবে। রাতের বেলা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সব মার্কেট সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।

৬. পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া ও চাঁদাবাজি বন্ধ
বাস, ট্রেন ও লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অবৈধ সিরিয়াল বিক্রি ও চাঁদাবাজি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রীদের কষ্ট কমাতে পরিবহন মালিকদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

৭. যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ
ঈদের সময় যানজট যেন না বাড়ে, সে জন্য রাজধানীসহ সারাদেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে।
প্রয়োজনে বিকল্প রুট ও ফ্লাইওভার ব্যবহার করা হবে।

৮. টোল প্লাজায় দ্রুত যান চলাচল
যমুনা সেতু, পদ্মা সেতু ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু রাখা হবে, যাতে যানজট না হয়।

৯. সড়ক মনিটরিং জোরদার
১৫৫টি স্পটে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে যানবাহন চলাচল মনিটরিং করা হবে। এতে দুর্ঘটনা ও যানজট কমবে।

১০. অকারণে যানবাহন থামানো বন্ধ
ঈদের আগে ও পরে সাত দিন যানবাহন থামানোর ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। শুধু জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন থামানো যাবে।

১১. নির্মাণসামগ্রী বহনকারী যান নিয়ন্ত্রণ
ঈদের আগে ও পরে তিন দিন নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী যানবাহন মহাসড়ক ও নৌ-রুটে চলাচল করতে পারবে না।

১২. নৌপথে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ
ঈদের আগে ও পরে পাঁচ দিন নদীতে বাল্কহেড (বালু ও পাথরবোঝাই জাহাজ) চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

১৩. দ্রুত উদ্ধারকার্য নিশ্চিত করা
সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধারকার্য চালাতে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স ও কোস্টগার্ড প্রস্তুত থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স ও রেসকিউ বোট মোতায়েন করা হবে।

১৪. দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত অপসারণ
যদি কোনো গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে বা নষ্ট হয়, তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। পদ্মা ও যমুনা সেতুতে অতিরিক্ত রেকার রাখা হবে।

১৫. কন্ট্রোল রুম ও জরুরি যোগাযোগ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে ০১৩২০০০১২২৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সঙ্গেও সমন্বয় রাখা হবে।

সবাই মিলে নিরাপদ ঈদ।

ঈদ যাত্রা শুধু সরকার বা প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। সচেতন নাগরিক হিসেবেও আমরা যানবাহনের নিয়ম মেনে চলি, অতিরিক্ত ভাড়া দেব না, এবং অপ্রয়োজনে রাস্তা অবরোধ করব না। সবাই মিলে এই ঈদকে আনন্দময় ও নিরাপদ করে তুলতে পারি।

আরএ/এসএন 

Share this news on: