বনশ্রীতে নারী সাংবাদিককে হেনস্তা, থানায় মামলা

রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় বহুল প্রকাশিত একটি ইংরেজি দৈনিকের এক নারী সাংবাদিককে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ৮টায় বনশ্রীর ই-ব্লকের তিন নম্বর সড়কের একটি জুসের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিক সোয়েব রহমান জিশান (২৫) নামে এক যুবকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো দুজনকে আসামি করে রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগে ওই নারী সাংবাদিক ও তার ছোট ভাইকে মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী সাংবাদিক বলেন, রাত সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার দিকে আমি এবং আমার ছোট ভাই বনশ্রী ই-ব্লকের তিন নম্বর রোডের মুখে একটি জুসের দোকানে ছিলাম। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় যুবক আমাকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। আমার ভাই প্রতিবাদ করলে তারা প্রথমে তাকে মারধর করে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে, শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে।

তিনি আরো বলেন, আমরা নিজেদের বাসার সামনেই নিরাপদ নই। ছেলেগুলো এমনভাবে আচরণ করছিল যেন তারা যা করছে, সেটাই তাদের অধিকার। আমার ভাই যখন প্রতিবাদ করল, তখন তারা আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এমনকি তারা আমাকে হেনস্তা করার পরও অকপটে বলে, ‘হ্যাঁ, আমরা রেপ করেছি, কী করবে?’

এ বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, বনশ্রীর ই-ব্লকের একটি জুসের দোকানে ঘটনাটি ঘটে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কয়েকজন যুবক নারী সাংবাদিক ও তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ছিল। বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যে মামলা নেওয়া হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় ওই নারী সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বলেন, আমার নিজের বাসার সামনেই নিরাপদ নই! আমাকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় আমার ভাইকে মারধর করা হলো, আমাকেও লাঞ্ছিত করা হলো।
অথচ আশপাশের কেউ এগিয়ে এলো না।
 
তিনি আরো লেখেন, আমার চুল টেনে ধরে আমাকে হ্যাচকা টান দেওয়া হলো, বুকে আঘাত করা হলো, লাথি মারা হলো। চারপাশের সবাই দাঁড়িয়ে দেখছিল, কেউ কিছু বলেনি। একজন সাংবাদিক হয়েও যদি আমি এ রকম হামলার শিকার হই, তাহলে সাধারণ নারীদের নিরাপত্তার কী অবস্থা?


এমআর/এসএন


Share this news on: