বাসা ভাড়া নেওয়ার একদিন পরেই স্ত্রীকে হত্যা,পলাতক স্বামী

স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেওয়ার একদিন পরেই স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়েছে ঘাতক স্বামী। রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারের মহসিন কলোনী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তালাবদ্ধ ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে অস্বাভাবিক পেট ফোলা অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানায়, মহসিন কলোনীর বাসিন্দা কাজী এমরান নূরীর মালিকানাধীন বাসার রুম ভাড়া দেওয়া হবে এমন লেখা সম্বলিত ঝুলানো সাইনবোর্ড দেখে পহেলা এপ্রিল তারিখে এক দম্পতি তিন হাজার টাকায় রুমটি ভাড়া নেয়।

মধ্যবয়সি নারী ও ৩০/৩৫ বছর বয়সী দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তিন হাজার টাকা ভাড়ায় এক হাজার টাকা নগদে দিয়ে এক রুমের বাসাটি ভাড়া নেয়। এসময় তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী এবং বাড়ি দূরছড়িতে বলে জানায় বাসার মালিকদের।

পরের দিন ২রা এপ্রিল থেকে উক্ত রুমের দরজা বাইর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পায় স্থানীয়রা। শুক্রবার রাত থেকে উক্ত রুম থেকে দূর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের বিষয়টি সন্দেহ হয়।

পরবর্তীতে মধ্যরাতে কোতয়ালী থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে উক্ত তালাবদ্ধ ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।

পরবর্তীতে হাসপাতালের ডোম ও মহিলা পুলিশের নেতৃত্বে উক্ত নারীর প্রাথমিক সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়।

রাত তিনটার সময় রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছি।

প্রাথমিক সুরতহাল প্রস্তুত প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে ওসি বলেন, এটা প্রাথমিকভাবে আমরা হত্যাকাণ্ড মনে করছি। এই ঘটনায় কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী রাত চারটার দিকে জানিয়েছেন, নিহতের গলায় গামছা পেছানো অবস্থায় ছিলো, শরীরের পেট অস্বাভাবিকভাবে ফোলা ছিলো এবং দেহে পচন ধরতে শুরু করেছে, যার ফলে অত্যন্ত দূর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে মরদেহ।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পহেলা এপ্রিল উক্ত নারী ও তার স্বামী পরিচয়দানকারি ব্যক্তি উক্ত এলাকায় কোনো জিনিসপত্র ছাড়াই গিয়ে ভাড়া বাসাটি দেখতে যাওয়ার বিষয়টি সিসিটিভির ফুটেজে পাওয়া গেছে। সেটি কালেকশন করা হয়েছে। উক্ত ফুটেজের এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত একটি আইডি কার্ডের সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালানো হচ্ছে।

এফপি/এসএন

Share this news on: