© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গোপনে মা-মেয়ের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ালো দুই গ্রামবাসী

শেয়ার করুন:
গোপনে মা-মেয়ের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ালো দুই গ্রামবাসী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:০২ এএম | ১১ এপ্রিল, ২০২৫

<div style="text-align: justify; "><span style="">কু‌ড়িগ্রা‌মের চিলমারী ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপ‌জেলা

কু‌ড়িগ্রা‌মের চিলমারী ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপ‌জেলার হরিপুর শহড়ের মোড় এলাকায় ঈদে চিলমারী-হরিপুর তিস্তা সেতুতে ঘুরতে যাওয়া মা-মেয়েকে উত্যক্ত করার ঘটনার জেরে মাইকিং ক‌রে দুই গ্রু‌পের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্প‌তিবার (১০ এপ্রিল) সকাল থে‌কে চলা ক‌য়েক দফা এ সংঘ‌র্ষে উভয়প‌ক্ষের অন্তত ২০-২৫ জন আহত হয়ে‌ছেন। তা‌দের মধ্যে একজনকে চিলমারী উপ‌জেলা স্বাস্থ‌্য কম‌প্লেক্স ও রংপুর মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হ‌য়ে‌ছে।

এ ঘটনায় উভয়প‌ক্ষের ম‌ধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ কর‌ছে। চিলমারী থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের বাঁধা উপেক্ষা করে দুইপক্ষের শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেন। পরে খবর পে‌য়ে সেনাবা‌হিনীর এক‌টি টিম দুপুরে ঘটনাস্থ‌লে গি‌য়ে প‌রি‌স্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী সূত্র জানা যায়, গত শুক্রবার (৪ এপ্রিল) চিলমারী রমনা ইউনিয়নের দক্ষিণ খরখরিয়া গ্রামের পশির উদ্দিনের স্ত্রী ও মেয়ে তিস্তা সেতুতে ঘুরতে গেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপ‌জেলার হ‌রিপুর ইউনিয়‌নের শহ‌রের মোড় এলাকার বিজয়, পাভেল, সুমন গোপনে ছবি তোলেন এবং উত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে মা-মেয়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ করার সময় ওই কিশোরেরা তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ডাঙ্গার চর এলাকার হামেদ আলীর ছেলে সাজু ও রোস্তাম আলীর ছেলে মোতালেব মিয়ার চোখে পড়লে তারা বিষয়টির প্রতিবাদ করে। এতে শহ‌রের মোড় এলাকার বিজয়, পাভেল, সুমনসহ কয়েকজন মিলে চিলমারী উপজেলার ওই দুই যুবকের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের মারধর করেন। পরবর্তীতে তারা মারধরের বিষয়টি এলাকায় জানা‌লে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হ‌য়ে উঠে এবং দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে রমনা ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়খড়িয়া এলাকার লাল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৫) তার ভুট্টা ক্ষেত দেখতে গেলে শহরের মোড় এলাকার ফখরুলের ছেলে মিস্টারসহ কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করে। পরে আলমগীর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা পরিবারকে ফোনে মারধরের কথা জানায়। পরে খবর পেয়ে আলমগীরকে তার পরিবারের লোকজন আলমগীরের শরীরে বিভিন্ন জখম, ৫টি দাঁত ভাঙা ও পায়ের নিচে টেঁটার আঘাত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। তাকে প্রথমে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়েছে।

পরে ওই ঘটনায় দুই গ্রামের মানুষ মাইকিং করে তাদের লোকজনকে ডেকে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় গ্রামের ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন। খবর পে‌য়ে কু‌ড়িগ্রাম থে‌কে সেনাবা‌হিনীর এক‌টি টিম ঘটনাস্থ‌লে উপ‌স্থিত হ‌য়ে প‌রি‌স্থি‌তি নিয়ন্ত্রণে নেন।

চিলমারী রমনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম আশেক জানান, মা-মেয়ের গোপনে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন থেকে দুই গ্রামের মানুষের মাঝে উত্তেজনা চলছিল। আমরা কয়েকবার কথা বলে তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ চিলমারীর একজন কৃষক জমিতে কাজ করতে গেলে সুন্দরগঞ্জ শহ‌রের মোড় এলাকার ফখরুলের ছেলে মিস্টার ও কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করে আহত করে। ওই ঘটনায় দুই গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

চিলমারী ম‌ডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম জানান, ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। দুপুরে ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবা‌হিনীর এক‌টি টিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয়গ্রুপের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এরমধ্যে চিলমারী উপজেলার লাল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেনকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাইকিং করে পূর্ব পরিকল্পিত মারামারির বিষয়ে আমাদের কেউ কিছু বলেনি। এখন উভয় গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এফপি/টিএ

মন্তব্য করুন