৬ বছরে 'কলঙ্ক': এক 'অপূর্ণ' প্রেমের কাব্য…
ছবি: সংগৃহীত
১২:০১ পিএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৫
২০১৯ সালের ১৭ই এপ্রিল মুক্তি পেয়েছিল 'কলঙ্ক'। বিশাল বাজেট, চমৎকার কস্টিউম ডিজাইন, রাজকীয় সেট আর তারকাবহুল কাস্ট নিয়ে তৈরি এই ছবি মুক্তির আগেই হয়ে উঠেছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া, আর প্রতিশ্রুতিও ছিল — নিষিদ্ধ প্রেম, সামাজিক বঞ্চনা আর আত্মত্যাগের এক মহাকাব্য।
ছয় বছর পেরিয়ে আজ 'কলঙ্ক' হয়তো বক্স অফিসে বিজয়ীর মুকুট পরতে পারেনি, কিন্তু তবুও এটা দাঁড়িয়ে আছে এক অনরেবল ফেইলিওর হিসেবে — যেখানে প্রতিটি দৃশ্য যেন রঙ-তুলি দিয়ে আঁকা, প্রতিটি সংলাপ যেন একেকটা কবিতা।
'কলঙ্ক'-এর পর্দার পেছনের গল্পটাও ঠিক সিনেমার মতোই নাটকীয়। বাহার বেগম-এর চরিত্রে শুরুতে ছিলেন মাধুরী দীক্ষিত, কিন্তু সঞ্জয় দত্ত-এর বিপরীতে অভিনয় নিয়ে সংশয়ে থাকায় তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন শ্রীদেবী। দুর্ভাগ্যবশত, শ্রীদেবী-র আকস্মিক মৃত্যু সেই পরিকল্পনায় ছেদ টানে। এরপর মাধুরী-ই আবার ফেরেন চরিত্রটিতে — যাকে অনেকে দেখেন এক প্রকার শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে।
একইভাবে সঞ্জয় দত্ত-এর চরিত্রটি আগে কল্পনা করা হয়েছিল ঋষি কাপুর-এর জন্য। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি সরে গেলে দীর্ঘদিন পর খলনায়ক জুটি — সঞ্জয় দত্ত এবং মাধুরী দীক্ষিত আবার একসঙ্গে পর্দায় আসেন। শুধু এখানেই নয়, মূলত শাহরুখ খান ও রানী মুখার্জী-কে কল্পনা করা হয়েছিল বরুণ ধাওয়ান ও আলিয়া ভাট-এর জায়গায়। ভাগ্য যেন নিজের মতো করে স্ক্রিপ্ট লিখে নিয়েছিল।
মাধুরী দীক্ষিত-এর বাহার বেগম ছিল এক সম্মানপূর্ণ বিবর্তন — যেখানে ছিল মীনা কুমারী-এর পাকীজাহ-র সৌন্দর্য, রেখা-র উমরাও জান-এর ক্লাসিক আবেদন, আর দেবদাস-এর চন্দ্রমুখী-র মতো আত্মত্যাগী হৃদয়। কিন্তু বাহার বেগম শুধুই অনুকরণ ছিল না, বরং অতীতের প্রতি এক নীরব শ্রদ্ধা জানিয়ে বর্তমানকে আলাদা করে ব্যাখ্যা করার এক প্রচেষ্টা।
আলিয়া ভাট নিজেও এই ছবি নিয়ে ভীষণ ইমোশনাল ছিলেন। এটাই ছিল তাঁর প্রথম মাল্টি-স্টারার ছবি, আর সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিংও। 'কলঙ্ক'-এর জন্য তিনি এক বছর ধরে কথক শিখেছিলেন, সরাসরি শিখেছেন পণ্ডিত বিরজু মহারাজের কাছ থেকে। তাঁর চরিত্রের পোশাক ও লুকের অনুপ্রেরণায় ছিল ঐশ্বর্য রাই-এর জোধা আকবর ও সানম সাঈদ-এর জিন্দেগি গুলজার হ্যায়। এমনকি শুটিংয়ের সময় আলিয়া স্বীকার করেন, মাধুরী ম্যামের সামনে নাচতে গিয়ে তিনি এতটাই নার্ভাস হয়ে যেতেন যে প্রায়ই বলতেন, “প্লিজ, ম্যাম, আপনি একটু ভ্যানিটিতে চলে যান।”
'কলঙ্ক'-এর মুক্তির সময় ক্রিটিক-রা বিভক্ত ছিলেন — কেউ বলেছেন ছবিটা অতিরিক্ত কাব্যিক, কেউ আবার বলেছেন খুব ব্যক্তিগত। তবে এত কিছুর পরেও এটা ছিল এক হৃদয় থেকে তৈরি সিনেমা। করণ জোহর নিজেই বলেছিলেন, “Kalank remains an honourable failure”—এই সিনেমাটা ছিল তাঁর প্রয়াত বাবার স্বপ্ন, আর তাঁর নিজের আত্মার একটা অংশ।
আজ ছয় বছর পর 'কলঙ্ক' আমাদের মনে করিয়ে দেয় — সব সিনেমা তৈরি হয় না জেতার জন্য। কিছু সিনেমা শুধু থেকে যায় — একটা অসমাপ্ত ক্যানভাস-এর মতো, স্মৃতির মতো, আর হয়তোবা সেই “যদি হতো” প্রশ্নের মতো, যা কখনও ভোলা যায় না।