সংস্কারের নামে নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই:আমীর খসরু
ছবি: সংগৃহীত
০৬:১৩ পিএম | ২৭ মে, ২০২৫
দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘সংস্কারের নামে নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই। গণতন্ত্র ফেরাতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নিলে জাতীয় সংকট আরো বাড়বে। তাই দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ১০ মাস-গণতন্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আব্দুন নুরের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব বাবর চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর হোসেন মঞ্জু, গণ ধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান প্রমুখ।
সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘হাজারটা সংস্কার করেও কোনো লাভ হবে না, যদি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন না হয়। তাই আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে এবং এটা অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে গণ-অভ্যুত্থানের যে শক্তিগুলো ছিল, প্রথমত ছাত্র-জনতার সবার সমর্থন, দ্বিতীয়ত দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এবং তৃতীয়ত বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী। শেখ হাসিনার পতনের পেছনেও এই তিনটি শক্তি কাজ করেছে ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন এবং সেনাবাহিনী এটিকে সহায়তা করেছে।
আমীর খসরু বলেন, ‘দশ মাস পর এসে জাতীয় সেই ঐক্যে বিভেদ ও বিভাজন পরিলক্ষিত হয়েছে এবং তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সবাই সংস্কার প্রস্তাবনা জমা দিলেও কোথায় ঐকমত্য, তা প্রকাশিত নয়।
সবাই মুখিয়ে আছে কোথায় ঐকমত্য তা জানার জন্য। কিন্তু প্রেক্ষাপট অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে আগামীর রাজনীতি আগের মতো হবে না। সত্যিকার অর্থে পরিবর্তনশীল মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণের রাজনীতি করতে হবে। যেসব দল বা ব্যক্তি এসব বুঝবে না, তাদের কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘৫-১০ লোক নিজেদের বিজ্ঞ মানুষ হিসেবে মনে করে যে জনগণকে বাইরে রেখে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তাদের সাথে শেখ হাসিনার ব্যবধানটা কোথায় আমি দেখতে পাচ্ছি না। গণতন্ত্রের স্পিরিট থেকে সরে গিয়ে অনির্বাচিত সরকারের দিনগুলো যত দীর্ঘায়িত হবে, দেশ তত বেশি অস্থিতিশীল হবে।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা অপরিসীম সাহসী, উদ্যমী আর সৃষ্টিশীল যুবশক্তির বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চাই। আমরা তরুণদের জীবন-জীবিকা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে কাউকেই আর ছিনিমিনি খেলতে দিতে পারি না।
তাই অভ্যুত্থানের অর্জন ধরে রাখতে হলে আমাদের জেগে থাকতে হবে। পতিত ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর জায়গায় আমরা নতুন কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী চিন্তা, চেতনা বা জবরদস্তিকে মেনে নেব না। মব সন্ত্রাসকে মদদ জুগিয়ে সম্ভাবনাকে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের অসম্পূর্ণ কাজগুলোকে ২৪-এর চেতনায় বাস্তবায়িত করতে হবে।’
এমআর/টিএ