© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে গোপালগঞ্জে যুবক, করলেন বিয়ে

শেয়ার করুন:
প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে গোপালগঞ্জে যুবক, করলেন বিয়ে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৬ পিএম | ৩০ জুন, ২০২৫

<div> <div style="text-align: justify; ">প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন এক যু

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন এক যুবক। গন্তব্য গোপালগঞ্জ, যেখানে তাঁর প্রেমিকা সীমা বসবাস করেন। ফেসবুকের পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা এই প্রেম এখন পরিণতি পেয়েছে বৈবাহিক বন্ধনে। সীমার গোপালগঞ্জ শহরের নীচুপাড়া এলাকার বাড়িতেই উঠেছেন লিউ সিলিয়ান নামে ওই চীনা নাগরিক।

তাঁদের বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের মানুষ ভিড় করছেন নবদম্পতিকে একনজর দেখার জন্য। সীমার পরিবার জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে সীমা ও সিলিয়ানের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সে বন্ধুত্ব রূপ নেয় প্রেমে, আর এখন তা গড়াল বিবাহবন্ধনে।

নতুন জীবনের শুরুতে সবার দোয়া কামনা করেছেন নবদম্পতি ও সীমার পরিবার।

এরপর জেলা শহরের নীচুপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন হাওলাদারের মেয়ে ও প্রেমিকা সীমার টানে গত শুক্রবার চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন লিউ সিলিয়ান।

এরপর সোজা চলে আসেন গোপালগঞ্জে, ওঠেন প্রেমিকা সীমার বাসায়। পরে ছেলের মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের সম্মতিতে লিউ সিলিয়ান নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। এমনকি ওই দিনই কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে সীমা ও লিউ সিলিয়ানের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে লিউ সিলিয়ান ইসলাম ধর্মগ্রহণ করায় তার নতুন নাম রাখা হয়েছে মো. সাদেকুর রহমান সানি।

এ বিয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এক সফল প্রেমের গল্প।

এদিকে আজ সোমবার বিকেলে পরিবারের সকল সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতি পালন করা হয় নানা আনুষ্ঠানিকতা। মেয়ের প্রেমের কথা জানার পর প্রেমিক লিউ সিলিয়ানকে মেনে নেন সীমার মা-বাবা। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিয়েতে সম্মতি দিয়ে তা সম্পন্ন করেন। এতে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে সীমার পরিবারে।

সীমার বাবা মো. আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ছেলে ও মেয়ের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা দেখে পরিবারও রাজি হয়ে যায়। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ হয় এবং আজ সোমবার আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।’

সীমা আক্তার বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। কারণ আমার ভালোবাসার মানুষ হাজার মাইল দূর থেকে এসেছে কেবল আমাকে বিয়ে করার জন্য। ও সত্যিই অনেক ভালো মনের মানুষ এবং আমাকে খুব ভালোবাসে।’

সীমা বলেন, ‘আমি জানতাম, ও যদি সত্যি ভালোবাসে, তাহলে আসবে। আর সেটা ও করেছে।’

সীমার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘প্রথমে আমরা একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু ছেলেটির ব্যবহারে বুঝতে পেরেছি, সে সত্যিই ভালো মনের মানুষ।’ এলাকাবাসীও তার সাহস ও ভালোবাসার গল্পে মুগ্ধ।

চীনা যুবক সানি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ খুব ভালো। সীমা ও তার পরিবার আমাকে আপন করে নিয়েছে। আমি সীমাকে খুব ভালোবাসি।’

তিনি জানান, এক মাসের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সীমাকে চীনে নিয়ে যাবেন। সানি বলেন, ‘আমি সবার দোয়া চাই, যেন সীমাকে সারা জীবন ভালোবাসতে পারি।’

নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণের প্রসঙ্গে সানি বলেন, ‘ভালোবাসার জন্য আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। এখন আমি মো. সাদেকুর রহমান সানি। সীমার পরিবারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তারা আমাকে তাদের পরিবারের একজন হিসেবে গ্রহণ করেছে।’

সকল আনুষ্ঠানিকতা এবং পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরি হলে দ্রুত স্ত্রীকে নিয়ে মা-বাবার কাছে নিজ দেশ চীনে ফিরে যাবেন লিউ সিলিয়ান।

এদিকে, চীনা ওই যুবক ও জামাইকে দেখতে সীমাদের বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা ভিড় করছে।

টিকে/

মন্তব্য করুন