© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দিয়াবাড়ির দুর্ঘটনায় জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়েছে একাদশের শিক্ষার্থী রিয়া

শেয়ার করুন:
দিয়াবাড়ির দুর্ঘটনায় জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়েছে একাদশের শিক্ষার্থী রিয়া

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩৬ এএম | ২৫ জুলাই, ২০২৫
ঢাকার দিয়াবাড়ি যেন সেদিন মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছিল। ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৩ মিনিট। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা, মুহূর্তেই আগুন, ধোঁয়া আর আতঙ্কে ভরে উঠল আকাশপথ। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আছড়ে পড়ল মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনের ওপর।

সেই ভয়াবহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কাইলানী গ্রামের মেয়ে আকাশ লিনা রিয়া। একাদশ শ্রেণির ছাত্রী, তখন কোচিং ক্লাসে ছিলেন জানালার পাশে। হঠাৎ এক বিকট শব্দ—মনে হয়েছিল কিছু একটা ব্লাস্ট হলো। জানালার পাশ দিয়ে দেখা গেল আগুনের লেলিহান শিখা, মনে হচ্ছিল আকাশটাই জ্বলে উঠেছে।

রিয়া জানালেন, ভবনের ছয়তলায় ছিলেন তারা। ভীত হয়ে দৌড়ে নিচে নেমে যান সবাই। প্রথমে ভেবেছিলেন, ছেলেদের বিল্ডিংয়ে কিছু হয়েছে। কিন্তু নিচে নেমে দেখেন, শিশুদের ভবনের সামনে পড়ে আছে বিধ্বস্ত বিমান। তখনো পুরো ঘটনা বোঝা যায়নি, কিন্তু পোড়া দেহ যখন একটার পর একটা বের করে আনা হচ্ছিল, তখন পুরো পৃথিবী থেমে গিয়েছিল রিয়ার কাছে।

বিমানটি পড়েছিল শিশু বিভাগের ‘স্কাই’ সেকশনের গেটের সামনে। প্রতিদিন শিশুরা সেই গেট দিয়েই বের হয়, মাত্র দশ মিনিট পরেই তারা ছুটি পেত। কিন্তু তার আগেই আগুন গিলে নিল তাদের ভবিষ্যৎ।

সেই দিন থেকেই ভেঙে পড়েছে রিয়া। এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি। ঢাকায় আর থাকেন না, ফিরে গেছেন গ্রামের বাড়ি। কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলেন না। প্রতিবেশী অপর্ণা রানী বলছেন, রিয়া কথা কম বলে, ভয় পায়, যেন কিছু মনে করে আতঙ্কে কেঁপে ওঠে।

রিয়ার মা অরতি মজুমদার জানালেন, দুর্ঘটনার একদিন আগে মেয়েকে হোস্টেলে রেখে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। তখন রিয়া কান্নাকাটি করে বলেছিল, আরেক দিন থেকে যেতে। রিয়া সাধারণত এমন আবদার করে না। দুর্ঘটনার খবর শুনে রিয়া ফোনে বলেছিল, ‘মা আগুন, আগুন’, কিছুই বলতে পারছিল না। সেই কণ্ঠস্বর আজও ভুলতে পারেন না তিনি।

রিয়ার বাবা রিপন মৈত্র সেই খবর পেয়েই যা পরনে ছিল, তা নিয়েই ছুটে যান ঢাকায়। নিজের চোখে দেখা বিভীষিকাময় দৃশ্য তিনি আজও ভুলতে পারেননি। বললেন, “ভগবান আমার মেয়েকে বাঁচিয়ে দিয়েছে, কিন্তু কত বাবা-মায়ের কোল খালি হয়ে গেল। সেই রাতেই আমি রিয়াকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।”

আকাশ লিনা রিয়ার জীবন বদলে গেছে একদিনেই। শরীরটা বেঁচে ফিরলেও, মনে যেন পুড়ে গেছে ভয়াবহ আগুনে। এখনো তিনি হাঁসেন না, স্বাভাবিক কথাবার্তাও বলেন না। সেদিনের ধোঁয়া, আগুন আর পোড়া গন্ধ যেন আজও তাকে তাড়া করে ফেরে।

এসএন 

মন্তব্য করুন