বর্তমান প্রজন্ম এরইমধ্যে ৭১-কে অতিক্রম করেছে: নাহিদ ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩৪ পিএম | ০৮ আগস্ট, ২০২৫
<div><div style="text-align: justify; ">বর্তমান প্রজন্ম এরইমধ্যে ৭১-কে অতিক্রম করেছে বলে মন্তব্য কর
বর্তমান প্রজন্ম এরইমধ্যে ৭১-কে অতিক্রম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে নাহিদ লেখেন, আমরা আগেও বলেছি- ২৪ হলো ৭১-এরই ধারাবাহিকতা। ১৯৭১ সালের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল- সমতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার- তা নতুন করে নিশ্চিত হয়েছে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ও গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে।
তিনি বলেন, মুজিববাদ যখন ’৭১-কে ভারতীয় ন্যারেটিভে ঢুকিয়ে আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ বিসর্জন দিতে চেয়েছিল, ’২৪ তখন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে পুনরুদ্ধার করেছে। এটি ছিল কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ লড়াই- একটি গণতান্ত্রিক ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা থেকেই এই লড়াই গড়ে উঠেছিল।
এনসিপির এ নেতা বলেন, ২৪-পরবর্তী সময়ে জন্ম নিয়েছে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নতুন প্রজন্ম–যারা ২৪-এর লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করে জয়ী হয়েছে। আমরা ’৭১-কে অতিক্রম করে ’২৪-এ উপনীত হয়েছি। এখন যারা ‘একাত্তরের পক্ষে বা বিপক্ষে’–এই পুরোনো রাজনৈতিক বিভাজন ফিরিয়ে আনতে চাইছে, তারা দেশকে এক অচল ও পুরোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ফের টেনে নিয়ে যেতে চাইছে।
তিনি বলেন, কিন্তু আমরা ’২৪ থেকে নতুন সূচনা চেয়েছিলাম- একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে, যে সংস্কৃতি এই অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেয়া মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করবে।
নাহিদ বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে ঐক্যবদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক করতে মুজিববাদ ও অন্য সব স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাজিত করা আমাদের দায়িত্ব।
এই প্রজন্ম এরইমধ্যে ’৭১-কে অতিক্রম করেছে মন্তব্য করে, নাহিদ বলেন, এখন আর কেউ ‘৭১-এর পক্ষে না বিপক্ষে’- এই দ্বিধাবিভক্তির রাজনীতি কেউ আর মেনে নিতে রাজি নয়।
তিনি বলেন, ’৭১ ইতিহাসে থাকবে- রাষ্ট্রের ভিত্তি ও শ্রদ্ধার নীতি হিসেবে; কিন্তু এটি আর রাজনৈতিক বৈধতার একমাত্র মানদণ্ড হবে না। একইভাবে ’৪৭-ও স্মরণ করা হবে ঐতিহাসিক শ্রদ্ধার সঙ্গে, কিন্তু রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার হিসেবে নয়।
নাহিদ বলেন, এর অর্থ এই নয় যে মানে এই নয় যে আমরা ’৭১ বা ’৪৭ নিয়ে আলোচনা করব না বা বিতর্ক হবে না; বরং এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসে অবশেষে আমরা আমাদের ইতিহাসের প্রশ্নগুলোর সুরাহা করতে পারব। এখন রাজনীতি হতে হবে ’২৪-এর মূল্যবোধের ভিত্তিতে।
তিনি বলেন, যারা এখনও ’৭১-এ ফিরে যেতে চায়, তারা ’২৪-এর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে। ’২৪-এর অভ্যুত্থান অনেক রাজনৈতিক শক্তির জন্য অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রায়শ্চিত্তের সুযোগ এনেছিল। কিন্তু সেই প্রায়শ্চিত্ত অর্থহীন হয়ে পড়বে যদি তারা বা আমরা পুরোনো আদর্শিক রাজনীতিতে ফিরে যাই। আমাদের দায়িত্ব হলো, অচল দ্বিমাত্রিক রাজনৈতিক কাঠামোর পুনরুত্থান রোধ করা।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রকৃতি তুলে ধরে তিনি লেখেন, মনে রাখতে হবে যে ’২৪ কখনও প্রতিশোধের বিষয় ছিল না। যারা এটিকে প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তারা এর প্রকৃত অর্থই বোঝেনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ’২৪ হলো জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলনের ক্ষেত্র। এর চেতনা হলো ঐকমত্য, সহমর্মিতা ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়া- প্রতিশোধের চক্রের মাধ্যমে নয়।
কেএন/টিকে