বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিএনপি ছাড়া বেশ কতগুলো রাজনৈতিক দল চাইছে নির্বাচনটা যতদূর সম্ভব পেছানো যাক। তারা চাইছে আরেকটু হাতে সময় পেলে হয়তো কিছু আসন বেশি পেতে পারে। এজন্য তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাহানা নিয়েও হাজির হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দল এমনও দাবি করছে পিআর পদ্ধতি যদি না হয় তাহলে তারা নির্বাচনেই যাবে না।
সুতরাং কারা আসলে চাইছে বাংলাদেশে একটা স্টেবল সরকার এই মুহূর্তে না আসুক। কারা চাইছে নির্বাচনটা পিছিয়ে যাক সেটা আমরা কম-বেশি সবাই জানি।’
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের এক টক শোতে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা আরো বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা যখন হঠাৎ করে ৫ তারিখে ঘোষণাটি দিলেন যে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
তখন সরকারের ভেতরে সবাই কি খুশি হয়েছিল? মনে হয় না। আরেকটি রাজনৈতিক দল বলছে, নির্বাচন হওয়ার আগে অবশ্যই বিচার এবং সংস্কার শেষ করতে হবে। এখন বিচার বলতে, আপনি কি এফআইআর দায়েরকে বোঝাচ্ছেন? আপনি কি চার্জশিট পর্যন্ত নাকি আপনি বলছেন ট্রায়াল কমপ্লিট করে লয়ার কোর্টের সাজা; নাকি আপনি মিন করছেন একেবারে অ্যাপেলের ডিভিশন হয়ে সাজা।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে এই সরকার চাইলে প্রশাসনে সংস্কার করতে পারতেন।
পুলিশে করতে পারতেন সংস্কার। জুডিশিয়ারিতে করতে পারতেন। অন্যান্য যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আছে বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোতে করতে পারতেন সংস্কার। আমরা কি কোনো একটা জায়গায় সংস্কার করতে দেখেছি সরকারকে? আমরা কিন্তু দেখি নাই।’
বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক বলেন, ‘যারা জুলাইকে ৭১ এর মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায় তাদের ভেতরে একটা গহীন ষড়যন্ত্র আছে।
এই কালো ষড়যন্ত্রটা আমার মনে হয় মুখোমুখি হয়ে ফায়সালা হওয়া দরকার। আপনি বাংলাদেশে বাস করবেন। বাংলাদেশের আলো হাওয়া বাতাসে বেড়ে উঠবেন। বাংলাদেশের নাগরিকের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
কিন্তু আপনি ৫২-এর ভাষা আন্দোলনকে ধারণ করবেন না। ৬৯-গণ-অভ্যুত্থান আপনার মধ্যে নাচন ধরাবে না। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ আপনার ভেতরে কোন রেখাপাত করবে না। ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান আপনাকে মনে করিয়ে দেবে না যে গণতন্ত্রের জন্য আমাদের লড়াইটা কত দীর্ঘ এবং ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দিবে না যে কত শত মানুষের জীবনের বিনিময়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি। কত রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি। ‘
এফপি/ টিকে