সংস্কারের অলমোস্ট কোনো আকাঙ্ক্ষা পূরণ হচ্ছে না : ব্যারিস্টার ফুয়াদ

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, 'বাংলাদেশে যখন আমরা সংস্কারের প্রচুর আলাপ তুলতেছি পার্টিকুলারলি গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে অলমোস্ট কোনো আকাঙ্ক্ষা পূরণ হচ্ছে না। যেই সংস্কারটাই আমরা করতে চাচ্ছি সে সংস্কারগুলো আসলে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।'

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

ফুয়াদ বলেন, আমরা গত এক বছর থেকে আসলে বোঝার চেষ্টা করতেছি, পার্টিকুলারলি ঐক্যমত কমিশনে যে আমরা জুলাইতে লম্বা আলোচনা করলাম এই সময়টা জুড়ে এবং আগস্টেও যে, আসলে সমস্যাটা কোথায়? সংকটটা কোথায়? যে এত ভালো ভালো সিদ্ধান্ত হচ্ছে, উপদেষ্টাদেরকেও জিজ্ঞেস করতেছি বিভিন্ন জায়গাতে যে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন? সংকটটা কোথায়? কোথায় আটকে গেছি আমরা?

তো এই পুরো বিষয়টা বোঝার চেষ্টার ভিতরে দেখলাম যে, এই রাষ্ট্রের প্রত্যেকটা ভালো কাজ যেখানে গিয়ে আটকে যায় সেটা হচ্ছে আমলাতন্ত্র।

এবং এই আমলাতন্ত্রদের ব্যাপারে আমলাদের ব্যাপারে আহমদ সফার সে বিখ্যাত কথা আছে, 'আমলারা নিজেরাই একটা দল এবং এই দলের কাউকে জেলে যেতে হয় না।' এই দল সরকারের পরিবর্তন হলে ভোট হোক বা না হোক, সামরিক শাসন থাকুক আর গণতান্ত্রিক শাসন থাকুক, ফ্যাসিবাদ থাকুক আর একটু কম ফ্যাসিবাদ থাকুক, তারা তাদের জায়গাতে-পদে একদম নির্বিকার দায়িত্ব পালন করছেন এবং বসে আছেন।

তিনি বলেন, 'আমরা এটা খুব অনুভব করছি। বিশেষ করে তরুণরা যারা গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে সম্মুখশীর যোদ্ধা যারা ছিলেন, তারা খুব করে এটা বোঝার চেষ্টা করছেন এবং হাড়ে হাড়ে টেরও পাচ্ছেন যে, আসলে এত এত পরিবর্তনের স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষা কোথায় গিয়ে দিনশেষে আটকে যায়।
সে ডিপেস্টেটটা কারা এই রাষ্ট্রের ভিতরে রাষ্ট্রটা কারা?

আমাদের যেই অভিজ্ঞতা, আমরা দেখতে পাচ্ছি সেই রাষ্ট্রের ভিতরে রাষ্ট্র হচ্ছে আমলাতন্ত্র। সামরিক এবং বেসামরিক দুই পক্ষই। যারা কোনা ধরনের সংস্কারে বিশ্বাস করে না, যাদের একমাত্র সংস্কার হচ্ছে, তার পেট, তার রুটি রুজি, তার বড় গাড়ি, পেনশনে যাওয়ার পরে একটা বড় লামসামের টাকা পাবেন কিনা। রাজুকের প্লট-ফ্লট পাচ্ছেন কিনা।

ছেলেমেয়েরা বিদেশে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ছে কিনা। বিদেশে গিয়ে সেটেল হইতে পারছে কিনা। বিদেশে পড়াশোনা করছে কিনা। তাদের জ্বর সর্দি কাশি দাঁতে ব্যথা হইলে সিঙ্গাপুরে থাইল্যান্ডে মাউন্ট এলিজাবেথে যেতে পারছেন কিনা। এই হচ্ছে তাদের জগত।

তাদের এই পুরো সাড়ে তিন হাতের জায়গাটা হচ্ছে শুধু আমি। আমি, আমার ছেলে, আমার বউ, আমার মেয়ে এবং আমরা। এই আমরাটা হইলো তার দৃষ্টিতে তার চোখে বাংলাদেশ। হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। সার্টেনলি কিছু দেশপ্রেমিক মেধাবী আমলারা আছেন এবং তাদের সাথেও আমরা পরিচিত হয়েছি।

এরকম মেধাবী বেশ কিছু আমলাদের সাথে আমরা দেখেছি, যারা দিন-রাত আসলে মানে দেশের জন্য কাজ করছেন। দিন-রাত ভাবেন দেশটাকে কি করা যায়? দেশকে কিভাবে অবদান রাখা যায়? সেটা নিয়ে ভাবছেন। কিন্তু সংখ্যাটা খুব কম, খুবই কম। অনেক যোগ্য প্রচণ্ড মেধাবী প্রচন্ড সৎ এবং দেশপ্রেমিক এই যোগ্যতার আমলা প্রায় নাই বললেই চলে।

তাদেরকে আপনি সখানেক খুঁজে পাবেন কিনা সেটা আমার সন্দেহ আছে এবং দেখেন এক্সাম্পল দেই যে এই অকার্যকর দুর্নীতিবাজ আমলাতন্ত্র কিভাবে ফাংশন করে শেখ মুজিবের শতবর্ষ উদযাপন নিয়ে একটা কমিটি হয়েছে এই কমিটির যিনি সভাপতি ছিলেন মুখ্য সচিব।

তখন সাম ডক্টর নাসের উনি এখন জেলে আছেন। ওই কমিটির যিনি সদস্য সচিব ছিলেন এই সমন্বয়ক কমিটির শতবর্ষ উদযাপনের সে হচ্ছে ডক্টর এমদাদুল্লাহ মিয়া। বর্তমানে সে এখন কৃষি সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গাতে অভিযোগ উঠছে। ২০০ কোটি টাকা এই প্রকল্পের লেনদেনের ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে। যাচ্ছে তাই ক্ষমতার অপব্যবহার করার ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে। সরকারের টাকায় নিজের বাবা মা আত্মীয়স্বজনের নামে স্কুল-কলেজ করবার ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে।

এত কিছুর পরে দেখবেন যে সে বহল তবিয়তে সচিবের দায়িত্ব পালন করছে। কৃষি সচিবের দায়িত্ব পালন করছে। খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে ফাংশনাল অর্থনীতির জায়গা যে কৃষি সেখানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এবং আমরা যেটা দেখলাম যে যেই সকল এই কৃষি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা গত বছর গণঅভ্যুত্থানের সময় তিন তারিখে চার তারিখে পর্যন্ত আওয়ামী মন্ত্রী রাজ্জাক তারপরে নাসিম আওয়ামী এমপি সোকলড এমপি ছিল।

এদের নেতৃত্বে যে কৃষি কর্মকর্তারা মিছিল করেছিল সেখানে ধরেন এই যে সাইফুল নামে এক কর্মকর্তা ছিল সে এখন কৃষি অধিদপ্তরের দায়িত্বে আছে। কিন্তু যারা বঞ্চিত ছিল ডান ঘরানার বিএনপির জামাতের অথবা আওয়ামী লীগ করে নাই অথবা সিম্পলি পেশাদার কর্মকর্তা তারা এখনো বঞ্চিত। তাদেরকে বিভিন্ন জায়গাতে পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে, ঢাকার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ওএসডি করা হচ্ছে।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে এই যে একটা ফেনোমেনা ডক্টর এমদাদুল্লাহ মিয়া নামের যে একটা মানে আওয়ামী দোসর সে দেখলাম শেখ মুজিবের জন্য দোয়া পর্যন্ত করতেছে। মানে কোন লেভেলের দালালিপনা সে করেছে? ক্ষমতার উৎসটা কোথায়? এক বছর পরেও এই এমদাদুল্লাহ টাইপের ক্রিমিনালরা কিভাবে ক্ষমতায় থাকে? কিভাবে তারা দুই দুনিয়া এবং আখেরাত পরকাল সব দুনিয়ার বেহেশতের সব উপকরণ খাইতে পারে। আওয়ামী বেহেশতেও তারা ফল খায়। এরপরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বেহেশতেও তারা ফল খায়। এরপরে যখন জাতীয়তাবাদী বিএনপি সরকার আইব ওই বেহেশতেও তারা আঙ্গুর, ফুল সব খাইব।'

তারা সব বেহেশতের ভিতরে হুর দেখে। এই এত ঈমানদার আল্লাহর ওলিরা কিভাবে আমাদের আমলাতন্ত্রে কাজ করে? তারা সচিবের দায়িত্বটা পাইলো কোথায়? ক্ষমতার উৎস কোথায়? ক্ষমতার উৎস হচ্ছে আগামী দিনে যারা ক্ষমতায় যাবেন ওই রাজনৈতিক দলগুলোর ভিতরে কিছু ক্রিমিনাল আছে যারা সচিবালয় নিজেরা সিন্ডিকেট তৈরি করতেছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে কর্মীদেরকে টাকা পয়সা ডিএটি এগুলো সে ম্যানেজ করতেছে। আমলাতন্ত্রের ভিতরে ম্যানেজ করতেছে।

ঠিক একইভাবে দেখেন তথ্য আপাজে প্রকল্প আছে একই প্রকল্পের ভিতরে আমরা দেখলাম যে গত কয়েক বছর ধরে পিডি ডিপিডি সচিব মহিলা সংস্থার ইডি এই যে টোটাল একটা বাটপার শ্রেণি আছে আওয়ামী দালাল, দোষর এদের নাম।

আবার এখন কয়দিন পরে প্রমোশন হইব। এরা ডেপুটি সেক্রেটারি থেকে জয়েন্ট সেক্রেটারি হইবো। জয়েন্ট সেক্রেটারি থেকে এডিশনাল সেক্রেটারি হইব। পাঁচ বছরেও ধরেন জুনিয়র তারা এখন সজীব হইতে চায়।র এই ক্রিমিনাল সিন্ডিকেট বাড়ি গোপালগঞ্জ ছয় বছর ধরে এক পোস্টে আছে কোনো পথ রদবাদ বদল হয় না এই যে আল্লাহর ওলিদেরকে নিয়ে যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলে এই আমলাতন্ত্র।

তো যা হওয়ার তাই হবে এরা সবাই ফানাফিল্লা লেভেলে চলে যাবে এই ফানাফিল্লা লেভেলের আমলা দিয়া তো দেশের মানুষের কোন লাভ হইবো না।

সত্যিকার সাধারণ মানুষের, নাগরিকের জীবনে ফিরে আসেন। তা না হলে যত বড় পদে আছেন, বিদেশে যাবেন, অবসরে যাবেন, আপনার ট্রেইল খুঁজে বের করা হবে। আপনার আমলনামার খতিয়ান বের করা হবে। এবং আপনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে একদিন ইনশাআল্লাহ।

এমআর/টিএ 

Share this news on:

সর্বশেষ

img
হাঁসে ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচার হাতে ভাতিজা খুন Aug 30, 2025
img
খুলনায় জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে গণঅধিকার পরিষদের হামলা Aug 30, 2025
img
ইংল্যান্ডে গিয়ে স্টোকসের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা তামিমের Aug 30, 2025
img
জামায়াত নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল: রফিকুল ইসলাম Aug 30, 2025
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে বললেন রাশেদ খান Aug 30, 2025
img
সিলেট সীমান্তে ২ জনকে পুশ-ইন করল বিএসএফ Aug 30, 2025
img
সব জাতিগোষ্ঠী নিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর বিএনপি: তারেক রহমান Aug 30, 2025
img
সাত বছর পর চীন সফরে মোদি Aug 30, 2025
img
শ্রম আইনের খসড়া পরিবর্তন চায় বিইএফ Aug 30, 2025
img
ইউক্রেনের সাবেক সংসদীয় স্পিকারকে গুলি করে হত্যা Aug 30, 2025
img
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরো ৩৬৭ জন Aug 30, 2025
মুনিয়া হত্যাকান্ডে তৌহিদ আফ্রিদির সংশ্লিষ্টতায় চ্যাঞ্চলকর তথ্য আইনজীবির Aug 30, 2025
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল অপ্রত্যাশিত সম্পদ! Aug 30, 2025
img
৩ দাবি আদায়ে শিক্ষকদের নতুন আলটিমেটাম Aug 30, 2025
img
প্রথম ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে সাইফ Aug 30, 2025
img
নুরুল হকের ওপর হামলা মর্মান্তিক, বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইলেন শিবির সভাপতি Aug 30, 2025
img
‘নুর যেন সেই ছোট ছেলেটি যে মাইরও খায়, আদরও পায়’ Aug 30, 2025
img
ফাঁসির মঞ্চ থেকে ইউরোপের শিখরে পাফোস এফসি! Aug 30, 2025
img
এবার রাজকুমার রাওয়ের সঙ্গে বায়োপিকে ওয়ামিকা Aug 30, 2025
img
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি রাশেদ খানের Aug 30, 2025