সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও কলাম লেখক গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, আপনারা যারা দেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তিত অথবা খোঁজখবর রাখেন তারা সবাই জানেন যে, গতকাল রাতে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর মারাত্মক আহত হয়েছেন। তার সেই রক্তাক্ত ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাসছিল এবং তাকে কেন্দ্র করে এক অবিস্মরণীয় রাজনৈতিক সমীকরণ আমরা দেখতে পেয়েছি।
তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে গণ-অধিকার পরিষদের সঙ্গে অনেকেরই রাজনৈতিক টানাপোড়ন আছে। কিন্তু যখনই নুরুল হক নূর আহত হলেন অমনি বিএনপির তারেক রহমান সাহেব থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন।
তারপর সরকারের পক্ষ থেকে ড. আসিফ নজরুল, প্রেস সচিব তারা হাসপাতালে দেখতে গেলেন। এরপর জামাতের নেতৃবৃন্দ দেখতে গেলেন। এনসিপির যারা নেতৃবৃন্দ তারা শুধু বিবৃতি দিলেন না তারা সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে মিছিল করলেন এবং গণ-অধিকার পরিষদ সারা বাংলাদেশে তাদের যেখানে যেখানে সংগঠন রয়েছে সব জায়গাতেই তারা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে দিল।’
‘এবারের যে ঘটনাটি ঘটলো, এর পেছনেও ত্রিমাত্রিক কারণ রয়েছে।
একপক্ষ সরাসরি সেনাবাহিনীকে ইঙ্গিত করছে। আরেকপক্ষ পুলিশকে ইঙ্গিত করছে। আরেক পক্ষ জামাতকে দায়ী করার চেষ্টা করছে। আর এই খবরের পেছনে যে ভারতের হাত রয়েছে, বিদেশী শক্তির হাত রয়েছে; এ কথাও কিন্তু অনেকে বলার চেষ্টা করেছেন।
বিশেষ করে জাতীয় পার্টির অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন জিএম কাদের। সেই জিএম কাদেরের যে হাস্যেজ্জ্বল ছবি এটা এই সময় অসম্ভব একটা বিষয়।’
‘এর কারণ হলো, আওয়ামী লীগ জমানায় আওয়ামী লীগকে শাসনে টিকিয়ে রাখার জন্য ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য আওয়ামী লীগের লোকজন যতটা না দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী জাতীয় পার্টির লোকজন। সর্বশেষ ভারতের সাহায্যকারী হিসেবে সেকেন্ড হ্যান্ড হিসেবে জিএম কাদেরের যে ভূমিকা, সেটা একেবারে ওপেন সিক্রেট। সেক্ষেত্রে পরিবর্তিত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সেই তাগড়া তাগড়া নেতাগুলো যেখানে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন; সেখানে সিনা ফুলিয়ে দাপট দেখিয়ে জাতীয় পার্টির জিএম কাদের এখনো বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করছেন বা আগামীর বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করবেন এরকম একটা ভাব তার মধ্যে ফুটে উঠেছে।’
রনি বলেন, ‘জিএম কাদের মূলত নিঃসঙ্গ একজন মানুষ। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় বা বৃহত্তর রংপুরে গত কয়েক মাসে কয়বার গিয়েছেন আমি বলতে পারব না, তার শরীরও ভালো নয়। তো তিনি হঠাৎ এই সময়ে কেন অফিসে আসলেন, তারপর সেখানে নুরুল হক নুরের দল গণঅধিকার পরিষদ সেখানে মিছিল করতে গেল। অফিস দখল করতে গেল বা সেখানে মব সৃষ্টি করতে গেল। এটার পেছনে কারণ কি?’
‘গণ-অধিকার পরিষদ নেতা রাশেদের বলেছেন, এইবার নুরুর প্রতি যে আক্রমণ করা হয়েছে, যে অমানষিক নির্যাতন করা হয়েছে; এটি শেখ হাসিনার জমানাতে হয়নি। কিন্তু নুরু হঠাৎ করে জাতীয় পার্টির অফিসে গেলেন কেন? মানে যেখানে এনসিপি রাগ হবে জাতীয় পার্টির ব্যাপারে, সেখানে গণ-অধিকার পরিষদ তাদের প্রতি রাগ হলো কেন? এটা একটা প্রশ্নের বিষয়। এর অনেক কারণ থাকতে পারে। কিন্তু সেটাকে আবার দমন করার জন্য একটা সংগঠনের শীর্ষ নেতাকে যেভাবে পেটানো হয়েছে যেভাবে আহত করা হয়েছে এটা নজিরবিহীন। এর মধ্যে আমি মনে করি আমাদের রাজনীতির একটা অশনি সংকেত বিরাজ করছে।’
এমআর/টিএ