গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপও প্রকাশ করেছে। ফলে দেশের রাজনীতিতে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া।
এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের কৌশল সাজাতে শুরু করেছে। ইসলামি ঘরানার অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-ও পিছিয়ে নেই। দলটি আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণে সক্রিয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।
আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) সম্প্রতি গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইসলামি দলগুলোর ‘এক বাক্স নীতি’ বাস্তবায়নে কাজ চলছে এবং এ নীতির আলোকে একটি বৃহত্তর নির্বাচনি জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে অধিকাংশ ইসলামি দলই সমঝোতার পক্ষে। বৈঠক ও আলোচনা চলছে।
তিনি আরও জানান, জামায়াতকে বাদ দিয়ে নয় বরং তাদের অন্তর্ভুক্ত করেই সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা একটি বৃহত্তর নির্বাচনি ঐক্যেরই অংশ।
চরমোনাই পীর বলেন, আমরা আধ্যাত্মিকতা ও রাজনীতিকে একত্রে নিয়ে মুজাদ্দিদিপন্থায় সমাজ ও শাসনতন্ত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করি। জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে আমাদের চিন্তাগত পার্থক্য রয়েছে। তবে এসব ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও অতীতে বহুবার ঐক্য ও সমঝোতা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সম্ভাব্য জোটগুলো ভেঙে পড়ার পেছনে জামায়াতের সঙ্গে আদর্শগত মতপার্থক্যই প্রধান কারণ -এমন ধারণা ভুল।
পিএ/টিএ